বৈশাখের তপ্ত দুপুর। চারদিক রোদে পুড়ে যাওয়া পথ আর প্রান্তর। মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ীতে সদ্য যোগদান করা নবাগত জেলা প্রশাসক সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলার বিভিন্ন দফতরের প্রধান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠান শেষে কিছুদূর এগোতেই তার চোখে পড়ে কদম ফুল ফোটার দৃশ্য। উপস্থিত সবার সামনে তিনি প্রশ্ন তোলেন—বর্ষার কদম গ্রীষ্মে কেন? তবে ফুলগুলো দেখতে দারুণ লেগেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হলদে-সাদা মিশ্রণের গোল বলের মতো কদম ফুল দুলছে গাছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যেও এই ফুল যেন প্রকৃতিতে এনে দিয়েছে এক প্রশান্তির ছোঁয়া। গ্রীষ্মের রুক্ষতার মাঝেও কদমের এই আগাম উপস্থিতি নজর কেড়েছে সবার।
কদমের আদি নিবাস বাংলাদেশ, ভারত ও চীন। কদম ফুল সাধারণত হলুদ, সোনালি ও লাল রঙের হয়; এর মধ্যে লাল কদম তুলনামূলকভাবে বিরল। প্রাচীন সাহিত্যের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে কদম ফুলের উপস্থিতি। মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্যেও কদম ফুলকে ঘিরে রাধা-কৃষ্ণের বিরহগাথা বর্ণিত হয়েছে।
বালিয়াকান্দি সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক তপন কুমার সরকার জানান, কদম ফুল বছরে তিনবার ফোটে—গ্রীষ্মকালে, বর্ষার শুরুতে এবং বর্ষার শেষে। তবে কবি-সাহিত্যিকরা তাদের লেখায় কদমকে মূলত বর্ষার ফুল হিসেবেই তুলে ধরেছেন।
প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, এ সময় কদম ফুল ফোটা কিছুটা বিস্ময়কর হলেও এর সৌন্দর্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ব্যস্ত শহুরে জীবনে এই ফুলগুলো যেন ক্ষণিকের জন্য হলেও এনে দিয়েছে সৌন্দর্যের স্পর্শ।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, কদম ফুল সাধারণত বর্ষায় ফোটে। কিন্তু সদর উপজেলায় এসে দেখলাম, অনেক কদম গাছে ফুল ফুটেছে, যা প্রকৃতির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, কদম গাছের পাশে একটি নিমগাছ রোপণ করা হয়েছে এবং পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

