বাংলার ঋতুচক্রে গ্রীষ্মের শুষ্ক ও রুক্ষ প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে বর্ষা। বাদল ঝরা দিনের কদম ফুল ফোটার ঋতু বর্ষার প্রথম দিন আজ সোমবার পয়লা আষাঢ়। নাচ-গানসহ নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে নবজাগরণ, সজীবতা ও জীবনের পুনর্সৃজনের প্রতীক বর্ষাকে বরণ করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
দুই মঞ্চে উদীচীর বর্ষা উৎসব
বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাজধানীর দুই মঞ্চে বর্ষাবরণ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এর মধ্যে একাংশের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ও আরেকাংশের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে। এর মধ্যে ‘আষাঢ়ের গর্জনে নবযাত্রার ডাক, বৈষম্য বিনাশে মানুষ জেগে থাক’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের উদ্যোগে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত হয় এই বর্ষা উৎসব।
ভোর সাড়ে ৬টায় উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সভাপতি নূর মোহাম্মদ তালুকদার। অনুষ্ঠানের বর্ষাকথন পাঠ করেন বর্ষা উৎসব-১৪৩৩ উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব শেখ আনিসুর রহমান। আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দ।
উদ্বোধনী পরিবেশনায় পূর্ণচন্দ্র মন্ডল ও তার দল পরিবেশন করেন রাগসংগীত ‘মেঘমল্লার’। একক সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, জয়া সেন গুপ্তা ও শাওন কুমার রায়। একক নৃত্য পরিবেশন করেন তর্পিতা ইসলাম অবধি। দলীয় নৃত্যে অংশগ্রহণ করে ধৃতি নর্তনালয় এবং স্পন্দন।
সমবেত সংগীত পরিবেশন করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ, উদীচী কাফরুল শাখা, উদীচী বাড্ডা শাখা, উদীচী গেন্ডারিয়া শাখা এবং স্বপ্নবীনা। একক আবৃত্তি করেন রেজীনা ওয়ালী লীনা ও সুবর্ণা আরফিন এবং বৃন্দ আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করে মুক্তধারা, সংস্কৃতি বিকাশ ও চর্চাকেন্দ্র এবং স্রোত আবৃত্তি সংসদ।
প্রতিটি পরিবেশনার পরে অতিথি এবং শিল্পীদের নানান দেশীয় গাছ উপহার দেন উদীচীর শিল্পী-কর্মী-সংগঠকরা।
এদিকে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে ‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আরেকাংশ আয়োজন করে ‘বর্ষা উৎসব’। সকাল সাড়ে ৭টায় শিল্পী জাবীর ইমাম খান শাহীর রাগ ‘মিয়া কি মল্লার’-এর সুরধ্বনিতে উৎসবের সূচনা হয়। পরে ‘বহর’ নৃত্যদল, মাহমুদুল হাসান, অনিমা রায়, মীর সাখাওয়াতসহ বিভিন্ন শিল্পীর পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান।
বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদ
নানা আয়োজনে শহীদ মিনারের পাদদেশের দক্ষিণ পাশের চত্বরে বর্ষাবরণ করেছে বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদ। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে নবীন প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী মো. মিনহাজুল হাসান ইমনের রাগ ‘জয় জয়ন্তী’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। উৎসবে আবৃত্তি করেন নায়লা তারাননুম চৌধুরী কাকলি ও মাশকুরে সাত্তার কল্লোল।
একক সংগীত পরিবেশন করেন তানজিলা তমা, নির্ঝর চৌধুরী, ফেরদৌস কাকলি, রত্না সরকার, ইয়াসমিন মুশতারী, মাহমুদুল হাসান, সঞ্জয় কবিরাজ, আবু বকর সিদ্দিক, এস.এম মেজবা, তামান্না নিগার তুলি, শাহীন খান, মাহবুব রিয়াজ।
দলীয় নৃত্যে অংশগ্রহণ করেন নৃত্যম, দিব্য, স্পন্দন, ধৃতি নর্তনালয়, নৃত্যাক্ষ, শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে পঞ্চভাস্কর, সুরতাল সংগীত একাডেমি, সমস্বর, নির্বরনী, সুরবিহার, সীমান্ত খেলাঘর আসর ও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী।

