রহস্যময় ট্যাপির আসল পরিচয় জানেন কি

0
রহস্যময় ট্যাপির আসল পরিচয় জানেন কি

ডট ড্যাশের যুগ পেরিয়ে এখন প্রযুক্তির সময়, কিন্তু প্রকৃতির এক নীরব যোদ্ধা আজও লড়ছে টিকে থাকার জন্য। আজ ২৭ এপ্রিল বিশ্ব ট্যাপির দিবস। এই দিনটি ট্যাপির সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং সংরক্ষণে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদার করার লক্ষ্যেই পালন করা হয়।

দজদজদজদজদজদজদজ

ট্যাপির দেখতে অনেকটা শূকরের মতো হলেও এর ছোট শুঁড়ের মতো নাক একে আলাদা করে চেনায়। অনেকে একে বুনো শূকর বা অ্যান্টইটারের সঙ্গে তুলনা করলেও বাস্তবে এদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ঘোড়া ও গণ্ডার। ওজন ৬০০ পাউন্ডের বেশি হওয়া এই তৃণভোজী প্রাণী দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম স্থল স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলোর একটি।

মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও ট্যাপিরের বিস্তৃতি রয়েছে। বর্তমানে চার ধরনের ট্যাপির স্বীকৃত রয়েছে ব্রাজিলিয়ান ট্যাপির, মালায়ান ট্যাপির, বেয়ার্ডস ট্যাপির, মাউন্টেন ট্যাপির। এর মধ্যে ব্রাজিলিয়ান ও মাউন্টেন ট্যাপির ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে, আর মালায়ান ও বেয়ার্ডস ট্যাপির মারাত্মক বিপন্ন। বিশ্বে মালায়ান ট্যাপির রয়েছে প্রায় ৩০০০টি এবং বেয়ার্ডস ট্যাপির প্রায় ৫০০০টি।

ট্যাপিরকে অনেক সময় জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়, কারণ এরা দীর্ঘকাল ধরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এদের গর্ভকাল সাধারণত ১৩ থেকে ১৪ মাস। ট্যাপিরের নাক অত্যন্ত নমনীয়, যা দিয়ে সহজেই খাবার সংগ্রহ করতে পারে।

অ্যামাজন অঞ্চলে ট্যাপির শিকার করা হয় মাংসের জন্য, যা তাদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। জন্মের সময় বাচ্চা ট্যাপিরের গায়ে দাগ ও ডোরাকাটা নকশা থাকে, যা দেখতে অনেকটা তরমুজের মতো লাগে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই দাগ মিলিয়ে যায়।

ট্যাপিরকে বলা হয় বনের মালী। ফল খেয়ে বিভিন্ন স্থানে বীজ ছড়িয়ে দিয়ে বন পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই প্রাণী। ফলে ট্যাপির রক্ষা করা মানে পুরো ইকোসিস্টেমকে রক্ষা করা।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও সংরক্ষণ সংস্থা এই দিনে নানা আয়োজন করে। সচেতনতা বাড়াতে মানুষকে ট্যাপির সম্পর্কে জানার, সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তা করার এবং সামাজিক মাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

২০০৮ সালে ট্যাপিরপ্রেমী ও সংরক্ষণকর্মীদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বিশ্ব ট্যাপির দিবস পালিত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ২৭ এপ্রিল দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here