রংপুরে বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির, বিপর্যস্ত জনজীবন

0
রংপুরে বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির, বিপর্যস্ত জনজীবন

রংপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কাছাকাছি চলে আসায় শীতের তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা, সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গাছপালা ও ফসলের পাতায় বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির।

শীতের তীব্রতায় কাহিল হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ, বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও। বোরো বীজতলা ও আলুর আবাদ নিয়ে কৃষকরা চিন্তিত। সেই সঙ্গে দরিদ্র শীতার্ত মানুষের অবস্থা হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত।

রংপুর আবাহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের প্রথমে রংপুরে শীতের দাপট খুব বেশি দেখা না গেলেও গত দুই দিনে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার ভোর ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও দুপুর ৩টায় ছিল ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম থেকে ৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা বাতাসে জনজীবন আরও কাহিল হয়ে পড়েছে। 

কাউনিয়ার কৃষক আসাদ জানান, কুয়াশায় আলুর কিছুটা উপকার হলেও পশ্চিমা বাতাসে আলুর ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া শীত ও কুয়াশার কারণে বোরোর বীজতলা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

জানা গেছে, রংপুরে আড়াই থেকে তিন লাখ হতদরিদ্র মানুষ রয়েছেন। এসব মানুষ প্রতিবছর শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে থাকেন। শীত মোকাবিলায়  প্রতিবছর ত্রাণ অফিস থেকে শীতবস্ত্রের চাহিদা পাঠানো হয়। এবার শীতবস্ত্রের পরিবর্তে প্রতিটি উপজেলায় শীতবস্ত্র কেনার জন্য ৬ লাখ করে টাকা পাঠানো হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে শীতবস্ত্র কিনে অসহায় শীর্তাতদের মাঝে বিতরণ করা হবে।  

তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শীতার্ত মানুষের পাশে এখন পর্যন্ত সেভাবে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। সচেতন মহলের মত, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো এগিয়ে না এলে চরম দুর্ভোগে পড়বে দরিদ্র মানুষেরা।
 
এদিকে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শীতজনিত কারণে আগের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু ও বৃদ্ধ। বৃদ্ধরা হাঁপানিসহ বিভিন্ন রোগে এবং শিশুরা নিমোনিয়া,ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

শীতের কারণে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কাজের অভাব দেখা দিয়েছে। ঠিকমতো শ্রম বিক্রি করতে না পেরে বেকায়দায় পড়েছেন তারা। ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠন্ডায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কেনা-বেচা কমে গেছে। রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল করছে নিয়ন্ত্রিত গতিতে। দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে দিনের বেলাও চলতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। রাস্তা-ঘাটে মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কমে গেছে।

রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ধরনের আবহাওয়া আরও দুই-একদিন থাকবে। এর পরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here