বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে জার্সির নকশা বদলাতে বাধ্য হয়েছে হাইতি। তাদের জার্সিতে আঁকা একটি যুদ্ধের দৃশ্য ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে বিবেচিত হয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে খেলা দুটি প্রীতি ম্যাচে হাইতির খেলোয়াড়েরা যে জার্সিটি পরেছিলেন, তাতে ১৮০৩ সালের ঐতিহাসিক ‘ব্যাটল অব ভার্তিয়ের একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। ফরাসি ঔপনিবেশিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধেই জয়লাভ করে হাইতি স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। জার্সিতে সেই ঐতিহাসিক দৃশ্যের পাশাপাশি দেশটির জাতীয় পতাকাও সংযুক্ত ছিল।
তবে ফিফার সরঞ্জামবিষয়ক কঠোর বিধিমালায় জার্সি বা অন্য কোনো ক্রীড়া সরঞ্জামে ‘রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা কিংবা স্লোগান’ ব্যবহারের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ঐতিহাসিক এই যুদ্ধের দৃশ্যটিকে সেই নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে হাইতিকে জার্সির নকশা পরিবর্তন করার নির্দেশ দেয় ফিফা।
এক বিবৃতিতে হাইতির জার্সি প্রস্তুতকারী কলম্বিয়ার ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সায়েতা জানিয়েছে, তাদের মূল নকশাটি ছিল হাইতির ভবিষ্যৎ গঠনে প্রতিদিন অবদান রাখা নারী-পুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই নকশা কোনোভাবেই কোনো ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি।
বিবৃতিতে সায়েতা আরও উল্লেখ করে, ফিফা মনে করেছে নকশার কিছু দৃশ্যমান উপাদান তাদের সরঞ্জামবিষয়ক বিধিমালার আলোকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। সে কারণে শেষ পর্যন্ত সংস্থাটি নকশায় পরিবর্তন আনার অনুরোধ জানিয়েছে। যদিও ফিফার এই ব্যাখ্যা তাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিল ছিল না, তবুও তারা বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করেছে।
দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে ক্যারিবীয় দেশ হাইতি। আগামী ১৪ জুন ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। ‘সি’ গ্রুপে হাইতির অন্য দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কো। এর আগে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে একমাত্রবার অংশ নিয়েছিল হাইতি, যেখানে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরে মোট ১৪টি গোল হজম করে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

