২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ফুটবল আসরের। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ফেবারিট দলগুলো নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন ফুটবল বিশ্বের বিশেষ নজর কেড়েছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড।
দীর্ঘ ৬০ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্নে বিভোর থ্রি লায়ন্সরা। ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, এবারের আসরে ইংল্যান্ডের শিরোপা জেতার পেছনে বেশ কিছু জোরালো যুক্তি রয়েছে, যার শুরুতেই আসে থমাস টুখেলের বিশাল অভিজ্ঞতা। চেলসিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো এই জার্মান কোচ বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে আন্ডারডগ দল নিয়ে বাজিমাত করতে সিদ্ধহস্ত, যা স্পেন বা ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় ইংল্যান্ডের জন্য সহায়ক হতে পারে।
ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাসের একটি বড় উৎস হলো তাদের দুর্দান্ত বাছাইপর্ব। উয়েফা বাছাইপর্বের ‘গ্রুপ কে’-তে আটটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে তারা। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, পুরো বাছাইপর্বে তারা একটি গোলও হজম করেনি এবং প্রতিপক্ষের জালে ২২টি গোল করেছে। একমাত্র নরওয়ে ছাড়া আর কোনো দলই শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে মূল পর্বে পৌঁছাতে পারেনি। দলের খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতাও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে। গত দুটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলা এবং গত দুটি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার অভিজ্ঞতা দলটিকে কঠিন মুহূর্তে স্নায়ু ধরে রাখতে সাহায্য করবে। এমনকি নিকো ও’রেইলির মতো তরুণ খেলোয়াড়রাও বড় আসরে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।
এবারের ইংল্যান্ড দলটিকে বলা হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী এবং গভীরতাসম্পন্ন স্কোয়াড। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা এবং ডেক্লান রাইসের মতো বিশ্বমানের তারকাদের পাশাপাশি প্রতিটি পজিশনের জন্যই টুখেলের হাতে একাধিক যোগ্য বিকল্প রয়েছে। বিশেষ করে মাঝমাঠে ফিল ফোডেন, কোল পালমার এবং অ্যাডাম ওয়ার্টনের মতো প্রতিভাবানদের উপস্থিতি দলকে যেকোনো পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
সবশেষে দলের মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন সময়ের সেরা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে এই মৌসুমে ৫৪ ম্যাচে ৫৮ গোল করে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে রয়েছেন তিনি। ২০১৮ বিশ্বকাপের এই গোল্ডেন বুট জয়ী অধিনায়ক যদি তার বর্তমান ফর্ম বিশ্বকাপে ধরে রাখতে পারেন, তবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ফাইনালে ইংল্যান্ডের হাতে ট্রফি দেখা মোটেও অসম্ভব কিছু হবে না।
সূত্র: স্পোর্টস মোল

