কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়, বরং বর্তমান ব্যবসা পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার—এই বার্তাই সামনে এনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো একটি ব্যতিক্রমী ওয়ার্কশপ।
রাজধানীর লা মেরিডিয়ান ঢাকায় ইও বাংলাদেশ আয়োজন করে “লার্নিং প্রেজেন্টস লিডিং উইথ এআই ইনোভেশন, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড গ্রোথ” শীর্ষক এই বিশেষ সেশন। এতে প্রায় ৩০০ জন উদ্যোক্তা, শীর্ষ নির্বাহী ও শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
ওয়ার্কশপে মূল বক্তা ছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ এবং এআই ফার্স্ট মাইন্ডসেট-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ গুডম্যান। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এসি আই লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা।
চার ঘণ্টাব্যাপী এই সেশনে অংশগ্রহণকারীদের এআই টুলসের বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। বিশেষভাবে ক্লড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে এটিকে শুধু চ্যাটবট নয়, বরং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশীদার হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সেশনে অ্যাকাউন্ট সেটআপ, পরিবেশ কনফিগারেশন, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল এআই ব্যবহার, মেমরি ও পার্সোনালাইজেশন ফিচার এবং “গুডম্যান ক্লড মেথড” নিয়ে আলোচনা করা হয়, যার ধাপ আউটকাম, মোড, প্রম্পট, এক্সিকিউট, ডেলিভার।
এছাড়া ক্লড স্কিলস ব্যবহার করে পুনঃব্যবহারযোগ্য ওয়ার্কফ্লো তৈরি, প্রেডিকশন ফ্রেমওয়ার্ক, মার্কেট ইন্টেলিজেন্স এবং ক্লড কোওয়ার্কের মাধ্যমে ফাইন্যান্স, অপারেশন ও স্ট্র্যাটেজি খাতে ব্যবহার নিয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারীরা শিখেছেন কীভাবে ক্লড ব্যবহার করে টাস্ক অটোমেশন, সেলস ও মার্কেটিং, লিড জেনারেশন, ফাইন্যান্স প্রসেস, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং লিগ্যাল সাপোর্টের কাজ সহজ করা যায়।
ইও বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সোহানা রউফ চৌধুরী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যেই ব্যবসার ধরন বদলে দিচ্ছে এবং উদ্যোক্তাদের বাস্তব জ্ঞান দিয়ে সক্ষম করে তোলাই এ ধরনের উদ্যোগের লক্ষ্য।
ইও বাংলাদেশের লার্নিং চেয়ার নিশাত নাহরিন হামিদ বলেন, ৩০০ জন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে দেশের ব্যবসায়িক নেতৃত্ব এআই গ্রহণে প্রস্তুত।
সেশন শেষে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে আলোচনা শেষ হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

