প্রায় ১৯ বছর পর চলমান মানবিক সংকটের মধ্যেই গাজায় ভোট দিয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত এই পৌরসভা নির্বাচনে বেশিরভাগ আসনে জয় পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সমর্থিত প্রার্থীরা।
গাজার দেইর আল-বালাহ শহরটিই ছিল এই নির্বাচনের মূল কেন্দ্র। ২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এটাই সেখানে প্রথম কোনো ধরনের নির্বাচন। এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর এটি ফিলিস্তিনিদের প্রথম ভোটগ্রহণ।
রবিবার ফলাফল ঘোষণার পর ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ মুস্তাফা বলেন, ‘জটিল প্রতিবন্ধকতা ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির মধ্যে এক সংবেদনশীল সময়ে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেইর আল-বালাহর এই ভোট মূলত প্রতীকী ও পরীক্ষামূলক ছিল। এর মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে যে গাজা ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করা হামাস এ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী দেয়নি। পশ্চিম তীরের নির্বাচন পুরোপুরি বর্জন করেছে তারা। তবে দেইর আল-বালাহর একটি তালিকার কয়েকজন প্রার্থীকে স্থানীয়রা হামাসপন্থি হিসেবে দেখছেন। ফলে এই ভোটকে হামাসের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
দেইর আল-বালাহতে ‘দেইর আল-বালাহ ব্রিংস আস টুগেদার’ তালিকাটি হামাসপন্থি হিসেবে পরিচিত। এই তালিকা দুটি আসন পেয়েছে। শহরটিতে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন ছিল ১৫টি।
অন্যদিকে, আব্বাসের দল ফাতাহ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সমর্থিত ‘নাহদাত দেইর আল-বালাহ’ তালিকা ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে। বাকি আসনগুলো পেয়েছে ‘ফিউচার অব দেইর আল-বালাহ’ ও ‘পিস অ্যান্ড বিল্ডিং’ নামের দুটি স্থানীয় গোষ্ঠী। যাদের কোনোটি সরাসরি ফাতাহ বা হামাসের সঙ্গে যুক্ত নয়।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান রামি হামদাল্লাহ জানিয়েছেন, গাজায় ভোটার উপস্থিতি ছিল ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে তা ছিল ৫৬ শতাংশ। ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু ব্যালট বাক্স ও ভোটের সরঞ্জাম নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধের মধ্যেও এই নির্বাচন ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। একদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ দেখাতে চাচ্ছে, গাজা তাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে নয়। অন্যদিকে হামাস বর্জন করলেও তাদের সমর্থকদের অবস্থান কতটা শক্ত, সেটাও বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে অনেক গাজাবাসীর মতে, এই মুহূর্তে রাজনীতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, খাবার ও নিরাপত্তা তাদের জন্য বেশি প্রয়োজন।

