ভারতের পুনে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) একটি যুদ্ধবিমানের ‘হার্ড ল্যান্ডিং’-এর পর রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার গভীর রাত থেকে বিমান চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হয়। ঘটনার জেরে অন্তত ৬০টির বেশি আগমন ও প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার রাত ১০টা ২৫ মিনিট নাগাদ অবতরণের সময় একটি আইএএফ যুদ্ধবিমানের আন্ডারক্যারেজ (চাকা) বিকল হয়ে যায়, ফলে বিমানটি রানওয়ের মাঝখানে থেমে পড়ে এবং পুরো রানওয়েটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রাত প্রায় ১১টা থেকে রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুনে বিমানবন্দরের পরিচালক সন্তোষ ধোকে বলেন, যুদ্ধবিমানটি বর্তমানে রানওয়ের মাঝখানে অবস্থান করছে এবং সেটিকে সরাতে ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। আইএএফের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, রানওয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার করে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
ভারতীয় বিমান বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, প্রায় ২,৫৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ৪৫ মিটার প্রশস্ত রানওয়েটি সাময়িকভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনায় বিমানের ক্রু সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং বেসামরিক কোনো সম্পত্তির ক্ষতি হয়নি। যত দ্রুত সম্ভব রানওয়েটি সচল করার চেষ্টা চলছে।
প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, ঘটনাটিতে একটি সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান জড়িত ছিল। তবে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানটির ধরন নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনার সঠিক কারণ জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ আইএএফ কর্মকর্তা।
ঘটনার কারণে রাতভর চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বিমানবন্দরে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স যাত্রীদের টিকিট বাতিল করে পূর্ণ অর্থ ফেরত নেওয়া বা বিকল্প ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী ও পুনের সংসদ সদস্য মুরলীধর মোহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পুনে বিমানবন্দরটি একই সঙ্গে বেসামরিক ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে বিমান বাহিনীর এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচলের ওপর। শনিবার ভোর পর্যন্ত রানওয়ে সচল করার কাজ অব্যাহত ছিল।

