বেশ কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপী ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা। তারা জানান, ইউরোপ ‘একটি স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে প্রস্তুত।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা বলেছেন, আমি এই ব্যয়বহুল যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতার পূর্ণ পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করছি। কস্তা আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে স্থায়ী শান্তির জন্য একটি ব্যাপক কৌশল এগিয়ে নিতে অবদান রাখতে প্রস্তুত।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েন জোর দিয়ে বলেন, এখন অগ্রাধিকার হলো এর দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়ন। তিনি সব পক্ষকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে সম্মান করতে এবং একটি প্রকৃত যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি সর্তক বলেন, লেবানন যখন জ্বলছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য’ এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি এবং এই অঞ্চলে তার অস্থিতিশীল কার্যকলাপের অবসান ঘটানো উচিত।
জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে ইইউ-এর শীর্ষ কূটনীতিক কায়া কাল্লাস বলেন, শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে পরবর্তী পর্যায়ে ইইউ কীভাবে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত হতে পারে তা নিয়ে আজ মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক করবেন।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ তেহরান ও ওয়াশিংটনের চুক্তিকে একটি কূটনৈতিক সাফল্য বলে অভিহিত করেছেন, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা উন্নত করতে পারে। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে। তিনি লেবাননে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স তার অংশীদারদের সঙ্গে আরও আলোচনায় সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ, আলজাজিরা।

