যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, অস্বস্তিতে ইসরায়েল

0
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, অস্বস্তিতে ইসরায়েল

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুদ্ধ বন্ধে অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে ইসরায়েল।

চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন আলোচনার পথ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এই সমঝোতার ঘোষণার পরই ইসরায়েলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব হয়েছে। কয়েক মাস আগেও যেসব গণমাধ্যম ট্রাম্পকে ইসরায়েলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছিল, তারাই এখন তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা সীমিত বা বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সেনা উপস্থিতি কমানোর বিষয়েও আলোচনা তৈরি হতে পারে। এ কারণেই ইসরায়েলের কট্টরপন্থী মহল সমঝোতাটিকে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত পরাজয় হিসেবেও দেখছে।

তাদের ধারণা, চুক্তিটি কার্যকর হলে আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং তেহরান এটিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে তুলে ধরবে। ফলে বহুদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যে আঞ্চলিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার বড় একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

চুক্তির ঘোষণা আসার মাত্র এক দিন আগেও পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। গতকাল রবিবার (১৪ জুন) বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই হামলার তীব্র সমালোচনা করে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরান সমঝোতার পথে এগিয়ে যাওয়ায় কূটনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

যদিও এখনো চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ করা হয়নি এবং ইরানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন আসেনি, তবু মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনীতিতে এটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরই সমঝোতার প্রকৃত কাঠামো ও এর আঞ্চলিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সকলকে অভিনন্দন। হরমুজ প্রণালীর শুল্কমুক্ত ব্যবহারে আমি অনুমোদন দিচ্ছি‌। পাশাপাশি সেখান থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। এবার সারা পৃথিবীর জাহাজ তাদের ইঞ্জিন চালু করে দিক। তেল পরিবাহিত হোক।” 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি অর্জিত হয়েছে। উভয় পক্ষ সকল সম্মুখে, লেবানন সহ, সামরিক অভিযানের তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ী বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও দেশটির কিছু সংবাদমাধ্যমে এই চুক্তিকে ইরানের জন্য বিজয় হিসেবে বর্ণনা করছে।

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও মেহর নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here