যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান ও সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইরান। রাশিয়া ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ কূটনীতি ও শান্তিপূর্ণ সংলাপের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সময়ে ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ আচরণ’ এবং দেশটির নেতাদের ‘পরস্পরবিরোধী অবস্থান’ কূটনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইরানি বার্তা সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, ফোনালাপে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কূটনীতির কথা বলছে, অন্যদিকে এমন সব পদক্ষেপ নিচ্ছে যা আলোচনা ও সমঝোতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান অপর পক্ষের আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিজেদের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর সঙ্গেও এক ফোনালাপে কথা বলেন আরাগচি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পথে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরাগচি আরও বলেন, পরিস্থিতির সব দিক বিবেচনায় নিয়েই ইরান পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে এবং কীভাবে সামনে এগোনো হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ কূটনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ইরান কোনো চুক্তিতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তোলা হবে না।
ট্রাম্প লিখেছেন, এই অবরোধ আমরা কোনোভাবেই প্রত্যাহার করব না—যতক্ষণ না একটি ‘চুক্তি’ হয়। তার দাবি, এই অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনীতির কথা বলা এবং অন্যদিকে অবরোধ ও সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সাম্প্রতিক এসব পাল্টাপাল্টি বক্তব্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও বাস্তবে দুই পক্ষের দূরত্ব এখনো কমেনি।

