ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর জন্য দায়ী চিকিৎসকদের কঠোর সমালোচনা করে তাদের ‘একদল অপেশাদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আর্জেন্টিনার সরকারি কৌঁসুলিরা। ম্যারাডোনার মৃত্যুতে অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার থেকে পুনরায় বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক বছর আগে মামলার প্রধান বিচারপতির একটি তথ্যচিত্রে উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে আগের বিচার প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়ে গিয়েছিল।
২০২০ সালের নভেম্বরে ৬০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ম্যারাডোনা। মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার সময়েই বাড়িতে থাকার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। প্রসিকিউটর প্যাট্রিসিও ফেরারি আদালতের শুনানিতে বলেন, ম্যারাডোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত দলটি সব ধরনের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করেছে। ম্যারাডোনার শেষ সময়টি ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর।
ফেরারি আরও দাবি করেন, ম্যারাডোনা তার প্রকৃত মৃত্যুর ১২ ঘণ্টা আগে থেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিলেন। যদি শেষ এক সপ্তাহের মধ্যে কেউ তাকে গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার চিন্তা করত, তবে হয়তো আজ ম্যারাডোনা বেঁচে থাকতেন।
মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী ও নার্সদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। কারণ, তারা জানতেন তাদের গৃহীত চিকিৎসা পদ্ধতি ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবুও সেই পথ বেছে নিয়েছিলেন তারা। বিশেষ করে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে সুস্থ হওয়ার সিদ্ধান্তটিই ছিল প্রাণঘাতী। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ৮-২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
আদালত কক্ষে একটি স্টেথোস্কোপ প্রদর্শন করে ম্যারাডোনার পরিবারের আইনজীবী ফার্নান্দো বারল্যান্ডো বলেন, মৃত্যুর আগের দুই সপ্তাহে চিকিৎসকরা এই যন্ত্রটি একবারও ম্যারাডোনার বুকে ঠেকিয়ে দেখেননি। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, ম্যারাডোনার মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার চূড়ান্ত পরিণতি।
অন্তত ১২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর আগামী জুলাই মাস নাগাদ এই মামলার রায় আসতে পারে। কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন ম্যারাডোনার মৃত্যু শুধু ছিল ফুটবল বিশ্বের জন্য এক বিশাল শোকের মুহূর্ত এবং মহাকালের পতন। এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াইয়ের শেষে ম্যারাডোনার পরিবার ও ভক্তরা কাঙ্ক্ষিত বিচার পান কিনা।

