ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়ার কুত্রাল কো শহরে একটি বিশালাকার ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছে। ৮৫ ফুট উচ্চতার এই সুউচ্চ ভাস্কর্যটি বর্তমানে মেসির নির্মিত সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য হিসেবে স্বীকৃত, যা অতীতে ভারতের কলকাতায় স্থাপিত ভাস্কর্যটির চেয়েও বড়। প্রায় ৭০ টন ওজনের ইস্পাত দিয়ে তৈরি এই শিল্পকর্মটি নির্মাণ করতে ভাস্কর বেরোইসার সময় লেগেছে প্রায় ১৮ মাস।
ভাস্কর্যটিতে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে মেসির আইকনিক সেই মুহূর্তটিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যখন তিনি প্রথমবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। এছাড়া তার হাতের মুদ্রায় স্বর্গীয় আঙ্গিকে আকাশপানে তাকানোর ভঙ্গিটিও নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা মূলত তিনি তার প্রয়াত দাদিকে উৎসর্গ করে থাকেন। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার সেই রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল ম্যাচের স্মৃতি অমর করে রাখার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তেলসমৃদ্ধ শহর কুত্রাল কো সাধারণত পর্যটকদের কাছে খুব একটা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল না, তবে এই ভাস্কর্যটি উন্মোচনের পর থেকেই শহরটিতে পর্যটকদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। স্থানীয় শিল্পী বেরোইসা এই প্রসঙ্গে জানান, একজন আর্জেন্টাইন নাগরিক এবং শিল্পী হিসেবে মেসির মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের সম্মানার্থে এমন একটি কাজ করা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
শুধু কুত্রাল কো-তেই নয়, মেসির জন্মদিনের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে বুয়েনস এইরেসের উপকণ্ঠের বিভিন্ন প্রান্তে। সেখানে একটি পার্কিং লটের দেয়ালে ২০ ফুট চওড়া ও ১৮ ফুট উঁচু একটি বর্ণিল ম্যুরাল আঁকা হয়েছে, যাতে মেসির পাশে জায়গা পেয়েছে তার ১,৩০০ জন নিবেদিতপ্রাণ ভক্তের নাম। নিজের প্রতি এমন অসামান্য ভালোবাসা দেখে মেসি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সমস্ত সমর্থক ও আয়োজকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এদিকে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যেই রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচে আগামী রোববার মেসিদের প্রতিপক্ষ জর্ডান।

