মাসুদ সাঈদীর প্রচেষ্টায় মিলল নিখোঁজ প্রবাসীর সন্ধান, দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

0
মাসুদ সাঈদীর প্রচেষ্টায় মিলল নিখোঁজ প্রবাসীর সন্ধান, দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর চেষ্টায় প্রায় দেড় বছর ধরে নিখোঁজ থাকা জিয়ানগর উপজেলার প্রবাসী জিয়াউল হকের সন্ধান মিলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারানো এই প্রবাসীকে মাসুদ সাঈদীর চেষ্টায় দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

‎পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে দুবাইয়ে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন জিয়াউল হক। একপর্যায়ে তিনি বাকশক্তি হারান এবং বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের ফলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় দেড় বছর ধরে কোনো খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল পরিবারটি।

‎সম্প্রতি জিয়াউল হকের স্ত্রী ও সন্তান পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর কাছে তার খোঁজ পেতে এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা চান। বিষয়টি জানার পরপরই মাসুদ সাঈদী দ্রুত উদ্যোগ নেন। পরিবারের দেওয়া ছবি ও পাসপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে দুবাইয়ে নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু করেন তিনি। একাধিক হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার পর অবশেষে একটি হাসপাতালে জিয়াউলের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

‎পরে ওই দিন রাতেই মাসুদ সাঈদীর উদ্যোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে জিয়াউল হকের যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। এ সময় সন্তানের ‘আব্বু, আব্বু’ ডাকে নির্বাক জিয়াউল কোনো উত্তর দিতে না পারলেও অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। এ সময় জিয়াউল হককে দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশ্বস্ত করেন মাসুদ সাঈদী।

পিরোজপুরের জিয়ানগর ‎উপজেলার চণ্ডিপুরের চরবলেশ্বর গ্রামের জিয়াউল হককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মাসুদ সাঈদী। তার যোগাযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৬ এপ্রিল দুবাইয়ে অবস্থিত কনস্যুলেট জেনারেল অব বাংলাদেশের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে প্রথম সচিব শাহানাজ পারভীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। এতে জিয়াউল হকের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। চিঠিতে তাকে স্ট্রেচার, নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তাসহ বিমানে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ হাজার দিরহাম (১০ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা) ব্যয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে প্রদানেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এখন তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করি অল্পদিনের মধ্যেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের যেকোনো সংকটে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। আমি শুধু আমার দ্বায়িত্ব পালন করেছি। দীর্ঘদিন পরে জিয়াউল হকের পরিবারের মানুষদের মুখে হাসি দেখতে পেয়ে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি।

এক প্রতিক্রিয়ায় ‎জিয়াউল হকের স্ত্রী শামসুন্নাহার রুনা বলেন, এমপি মাসুদ সাঈদীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর স্বামীর সন্ধান পেয়ে আমরা আনন্দিত। আমরা এমপি সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি না হলে আমার স্বামী বেঁচে আছেন, না মরে গেছেন তা-ই জানতে পারতাম না। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি, তিনি কবে দেশে ফিরে আসবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here