ইরানে সামরিক স্থাপনায় হামলার জবাবে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ ইরানে সামরিক স্থাপনায় হামলায় ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানানো হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি হামলার পর এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “হরমোজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে এক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী একটি যোগাযোগ টাওয়ারে আগ্রাসন চালায়। এরপর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের যোদ্ধারা সেই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখান থেকে এই আক্রমণ পরিচালিত হয়েছিল। হামলায় পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।”
তবে কোন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বা সেটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে আইআরজিসি বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে একই সময় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কুয়েতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে সাইরেন বাজতে শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। যদিও এই সতর্কতার সঙ্গে সিরিক দ্বীপের ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
হরমোজগান প্রদেশ ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা, যেখানে বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াবে।
তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

