পারস্য উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি তেলের জাহাজ ইরানের বন্দর ছেড়েছে। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অন্তত ১ কোটির বেশি ব্যারেল তেলের চালান আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ভরটেক্সা’র বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এই তথ্য জানিয়েছে।
ভরটেক্সা তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, গত ১৩ এপ্রিল থেকে সোমবার পর্যন্ত তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাভুক্ত এবং দেশটির সাথে সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর অন্তত ৩৪টি জাহাজ চলাচল রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে ১৯টি জাহাজ বহির্গামী এবং ১৫টি জাহাজ পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। সংস্থাটি ইমেইল বার্তার মাধ্যমে এপিকে নিশ্চিত করেছে যে, বহির্গামী জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত ৬টি সরাসরি ইরানের অপরিশোধিত তেল বহন করছিল, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১০.৭ মিলিয়ন (১ কোটি ৭ লাখ) ব্যারেল।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধের লক্ষ্যে তাদের বন্দরগুলোতে কড়া নজরদারি ও নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। তবে সেই অবরোধ উপেক্ষা করে এই বিপুল পরিমাণ তেল পাচার হওয়ার খবরটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের চালান শেষ পর্যন্ত বিদেশের নির্ধারিত বাজারগুলোতে পৌঁছাতে পেরেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও ছায়া ট্যাংকার বা বিভিন্ন কৌশলে ইরানের তেল রপ্তানি অব্যাহত থাকা বৈশ্বিক জ্বালানি কূটনীতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

