ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আরোপের প্রচেষ্টাকে ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরু করেছে ইরান। সোমবার বিকেলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতির ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি জোর দিয়ে বলেন, ইরান অত্যন্ত সদিচ্ছা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছিল। তবে গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মার্কিন পক্ষের ‘অত্যধিক লোভ ও অযৌক্তিক দাবি’র কারণে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আলোচনার এই ব্যর্থতার জন্য তিনি সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেন।
একই দিনে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক এক ফোনালাপে আরাঘচি জানান, তেহরান অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে যাতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইরান আলোচনার পথ খোলা রাখলেও নিজের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
এদিকে, মার্কিন অবরোধের হুমকির কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করার মার্কিন চেষ্টা আসলে বিশ্ব অর্থনীতির বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।
সূত্র: সিএনএন

