মানসিক হাসপাতালে দুই রোগীর মারামারিতে একজনের মৃত্যু

0
মানসিক হাসপাতালে দুই রোগীর মারামারিতে একজনের মৃত্যু

দেশের একমাত্র বিশেষায়িত মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্র পাবনা মানসিক হাসপাতালে দুই রোগীর সংঘর্ষে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর নিহতের পরিবার, স্বজন ও বিশেষজ্ঞরা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা এবং জনবল সংকটকে দায়ী করছেন।

হাসপাতাল জানায়, গত ২ জুন গভীর রাতে আবাসিক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দুই রোগী সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নাজমুল (২৮) ও ঝিনাইদহের ইনজামুল হক (২৬)-এর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ইনজামুল মারা যান। এ ঘটনায় নাজমুলও আহত হন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সহিংস আচরণের ঝুঁকি থাকা দুই রোগীকে একই ওয়ার্ডে রাখা এবং সংঘর্ষের সময় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই এ মৃত্যু ঘটেছে। অন্যদিকে নাজমুলের পরিবার দাবি করেছে, রোগীর আচরণগত জটিলতার বিষয়টি আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর নিহতের ভাই ইজাজুল হক পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে তার দাবি, এ ঘটনায় মূল দায় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান বলেন, রোগীদের মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

হাসপাতালের নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট রেখা আক্তার জানান, সীমিত জনবল নিয়ে গভীর রাতে সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদও জনবল ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়; বরং দেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার দীর্ঘদিনের দুর্বলতা ও অবকাঠামোগত সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের মতে, পর্যাপ্ত জনবল, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী এবং উচ্চঝুঁকির রোগীদের জন্য পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here