মস্কোর স্যাটেলাইট সেন্টারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

0
মস্কোর স্যাটেলাইট সেন্টারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে বাধ্য করতে ড্রোন হামলার পরিধি বাড়াচ্ছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার একটি অন্যতম বৃহৎ স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। যদিও মস্কো এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার ভেতরে মস্কোর উত্তরে অবস্থিত দুবনা স্যাটেলাট কমিউনিকেশন সেন্টারটি এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার ইউক্রেনের ড্রোন হামলার শিকার হলো। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দুবনা সেন্টারটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ইউক্রেনে যুদ্ধরত রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।

দুবনা যোগাযোগ কেন্দ্রে আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ জানিয়েছেন, একটি ড্রোন শহরের একটি ’প্রশাসনিক ভবনে’ আঘাত হেনেছে এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। 

ভোরোবিওভ আরও জানান, মঙ্গলবার মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে ইয়েগোরিয়েভস্কে একটি ড্রোন একটি বাড়িতে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে এবং এক ছয় মাস বয়সী শিশু মারা যায়। 

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেছেন, সোমবার রাত থেকে ইউক্রেন মস্কোর দিকে একের পর এক ড্রোন ছুঁড়ছে। তবে রাশিয়ান বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ৬০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সামগ্রিকভাবে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৪১৯টি ধ্বংসের দাবি করেছে।

রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে জেলেনস্কি গত সপ্তাহে ৪০ দিনের একটি অভিযানের ঘোষণা করেছিলেন। তার অংশ হিসেবে ইউক্রেন রাশিয়ায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইউক্রেন ক্রমশ রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও গভীরে আঘাত হানছে। ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার তেল শোধনাগার হলেও পাশাপাশি মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গেও বড় আকারের ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।

যুদ্ধ ধীরে ধীরে তাদের দোরগোড়ায় চলে আসায় কিছু রাশিয়ানদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মস্কো অঞ্চলে এই হামলার জন্য কিয়েভের তীব্র সমালোচনা করে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ’বেসামরিক মানুষ ভুগছে, শিশুরা মারা যাচ্ছে।’

এর আগে গত ২২ জুনও ইউক্রেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুবনা যোগোযোগ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। মঙ্গলবারের হামলার কথা স্বীকার না করলেও প্রথম হামলার ব্যাপারে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কেন্দ্রটি ব্যাপক ড্রোন হামলার মুখে পড়েছিল। তবে যোগাযোগ এবং টেলিভিশন সম্প্রচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং কোনো কর্মী আহত হননি। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here