হাম রোগে আক্রান্ত শিশু রোগী ও তাদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে “মিনি হাইজিন পার্সেল” বিতরণ করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ময়মনসিংহ ইউনিট।
রবিবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হাইজিন পার্সেল বিতরণ করেন ময়মনসিংহ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড পরিদর্শন করে হাম আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের হাতে হাইজিন পার্সেল তুলে দেন ও তাদের খোঁজখবর নেন।
এসময় তিনি চিকিৎসক, নার্স , পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও প্রহরীদের মাঝেও রেড ক্রিসেন্টের সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন।
এ উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, হাম একটি সংক্রামক রোগ হলেও সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো টিকাদানের মাধ্যমে এর বিস্তার অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, “মানবসেবাই বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মূল লক্ষ্য। অসহায় ও সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা সবসময় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবো।”
“হামের প্রাদুর্ভাব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য রেড ক্রিসেন্ট ও যুব রেড ক্রিসেন্ট কর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে মাইকিং, প্রচারপত্র বিতরণ , উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কাজ করছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হতদরিদ্র শিশু রোগীদেরকে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আর্থিকভাবে সহায়তাও প্রদান করেছে এবং এই কার্যক্রম চলমান আছে । পাশাপাশি রোগীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।”
এ লক্ষ্যে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এসময় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ময়মনসিংহ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম টুটুল , ইউএলও হায়দার আলীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, ময়মনসিংহ মেডিকেলে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে মারা গেছে ৫১ শিশু। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২৫ শিশু আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৮ জন। বর্তমানে মোট ভর্তি আছে ৯৬ জন শিশু।

