দদিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আওলিয়াপুকুর ইউনিয়নের মোহাদানী গ্রামের অনেক নারী ও তরুণ ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এসব মানুষ এখন পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন।
বুধবার সরেজমিনে মোহাদানী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বাসিন্দা রূপনাথ রায়ের স্ত্রী স্মৃতি রায় মাটির বড় পাত্রে কেঁচোর মাধ্যমে জৈব সার উৎপাদন করছেন। শুধু তিনি নন, গ্রামের ২৭ জন নারী ও ১২ জন পুরুষ বর্তমানে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিডিএ)-এর সহযোগিতায় এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ১২ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তারা কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন। পরে সিডিএর সহায়তায় গঠিত ভূমিহীন চকমুসা জনসংগঠনের মাধ্যমে উৎপাদিত সার বাজারজাত করে আয় করছেন।
উদ্যোক্তা স্মৃতি রায় বলেন, সিডিএর সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করি। প্রথমে দুটি খালি মাটির পাত্র কিনে কাজ শুরু করেছিলাম। বর্তমানে ১৬টি পাত্রে সার উৎপাদন করছি। এই আয় দিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছি। পাশাপাশি কৃষকেরাও আমার উৎপাদিত জৈব সার ব্যবহার করে রাসায়নিকমুক্ত ফসল উৎপাদন করছেন।
আরেক নারী উদ্যোক্তা মায়া রাণী, রুপালী রায় এবং তরুণ উদ্যোক্তা মো. রাশেদ আলী জানান, তারা ১২টি রিং ও পাঁচটি হাউজে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। এ থেকে প্রতি মাসে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে।
চকমুসা জনসংগঠনের সদস্য ও তরুণ উদ্যোক্তা রাশেদ আলী বলেন, সিডিএ আমাদের শুধু প্রশিক্ষণই দেয়নি, উৎপাদিত সার বিক্রির বাজারও তৈরি করে দিয়েছে। ফলে আমরা এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পেরেছি।
স্থানীয়রা বলছেন, পরিবেশবান্ধব জৈব সার উৎপাদনের এই উদ্যোগ একদিকে যেমন কৃষিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

