ইংলিশ চ্যানেলে যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী একটি ইয়টকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে রুশ যুদ্ধজাহাজ। এ ঘটনাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ এবং ‘বেপরোয়া’ বলে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
বুধবার কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত সপ্তাহে রাশিয়ার শ্যাডো ফ্লিটের জাহাজ জব্দের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই।
কিয়ার স্টারমার বলেন, ইয়টের এই ঘটনাটি ‘রহস্যজনক’ কিছুর ইঙ্গিত দেয় না। তবে আমরা দেখছি ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পা দিচ্ছে। রাশিয়ার স্পষ্ট আগ্রাসন এবং পুরো ইউরোপ জুড়ে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হামলা লক্ষ্য করছি।
এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বলে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার এক ব্রিটিশ এক দম্পতিকে বহনকারী ইয়টকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ‘ব্রাইট ফিউচার’ নামের ইয়টটি রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচের’ সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের পথে চলাচল করছিল। বিষয়টি রুশ যুদ্ধজাহাজের কর্মীরা লক্ষ্য করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। এরপর তারা সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, আইল অফ উইট থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে ব্রিটিশ জলসীমার বাইরে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে ইয়টকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। বরং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে ইয়টে ব্যক্তিরা জানান, তাদের নৌযানটি কোনোভাবেই সংঘর্ষের পথে ছিল না। তারা রুশ বিবৃতিকে তিনি ‘চিরাচরিত মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, বিষয়টিকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, গত রবিবার ট্যাঙ্কার জব্দের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমকালে রুশ যুদ্ধজাহাজকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে ব্রিটিশ নৌবাহিনী। এ ঘটনার সময় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘এইচএমএস মার্সি’ রুশ জাহাজ ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচকে’ পর্যবেক্ষণ করছিল।

