অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগ বালাই কম হওয়ায় এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। এতে করে এই জনপদে জমে উঠতে শুরু করেছে জাতীয় ফল কাঁঠালের বাজার। দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছে কাঁঠাল কিনতে।
স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে হাত বদল হয়ে এসব কাঁঠাল চলে যাচ্ছে কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় পাহাড়ি টিলা ভূমি সমৃদ্ধ লাল মাটি হওয়ায় এখানে কাঁঠালে চাষ বেশি হয়। এবার জেলার ৯৯২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ করা হয়েছে। ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের আশা, এ বছর জেলায় প্রায় ২১ কোটি ৬লাখ ৯ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি হবে।
জানা যায়, জেলা শহরের পূর্ব এবং দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী লাল পাহাড়ি মাটিতে কাঁঠালের আশানুরুপ ফলন হয়েছে। মধু মাসে জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুর, কালাছড়া, ছতুড়রপুর, পাহাড়পুর, মেরাসানি, আউলিয়া বাজার, চম্পকনগর, সিঙ্গারবিল ও কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর, বায়েক, মন্দবাগ, কায়েমপুর এবং আখাউড়া উপজেলার আজমপুর, আমুদাবাদ, রাজাপুর ও আদমপুর এলাকার প্রতিটি জনপদসহ বাগানে বাগানে ঝুলে আছে ছোট-বড় কাঁঠাল।
কৃষকরা জানান, রসালো মিষ্টি হওয়ায় বাজারে পাহাড়ি টিলাভূমির কাঁঠালের বেশ চাহিদা রয়েছে। বাগান থেকে পাইকারেরা প্রতি একশ পিস কাঁঠাল আকারভেদে বিভিন্ন দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে লাভবান হচ্ছেন তারা।
বিজয়নগরের বাগান মালিক আবুল হাসান বলেন, প্রতিদিনই একশো থেকে দুইশো কাঁঠাল কাটা হয়। এরপর আকারভেদে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনই পাইকারেরা আসেন। এবার ফলন ভালো হওয়ায় আমরা লাভের আশা করছি।
মো. ফারুক নামে অপর এক বাগান মালিক বলেন, আমরা আগেই কাঁঠাল বাগান কিনে রেখেছিলাম। প্রতি একশ কাঁঠাল ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দরে কিনে ছিলাম। এখন কাঁঠাল পরিপক্ক হওয়ার পাইকারেরা বিভিন্ন জায়গা থেকে বাগানে আসতেছেন। একশ কাঁঠাল বিক্রি করছি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা দরে।
এদিকে ক্রেতারা জানান, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি লাল মাটিতে কাঁঠালের জুড়ি নেই। দামও হাতের নাগালে রয়েছে। জেলার শহরের আনন্দ বাজারের কাঁঠাল বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুর, কালাছড়া, ছতুরপুর, পাহাড়পুর, মেরাসানি, আউলিয়া বাজার এলাকা থেকে কাঁঠাল সংগ্রহ করে বিক্রি করি। প্রতিদিন আড়াইশ থেকে তিনশো কাঁঠাল বিক্রি করি।
লোকমান মিয়া নামে আরেক ক্রেতা বলেন, আমাদের পূর্বাঞ্চলের মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ার এই অঞ্চলের কাঁঠাল খুব মিষ্টি হয়। আমরা এই এলাকার কাঁঠাল বেশি পছন্দ করি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মুনসী তোফায়েল হোসেন বলেন, মাটির গুণাগুণ ভাল হওয়ায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি প্রায় ২১ কোটি ৬ লাখ ৯ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি করা হবে।

