দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস বড় ধরনের শ্রমিক আন্দোলনের মুখে পড়েছে। বোনাস ও মুনাফা ভাগাভাগি নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ৪৮ হাজার কর্মী ধর্মঘটে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। সব ঠিক থাকলে ২১ মে থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হবে এবং এটি টানা ১৮ দিন চলতে পারে।
ইউনিয়নের নেতা চোই সেউং-হো জানিয়েছেন, সরকারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনা হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধান হয়নি। তিনি বলেন, সরকার যে চূড়ান্ত প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা সেটি মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু কোম্পানি তা গ্রহণ করেনি। তাই আইন অনুযায়ী ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিয়ন।
অন্যদিকে স্যামসাং বলছে, ইউনিয়নের কিছু দাবি ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। বিশেষ করে লোকসানে থাকা ইউনিটগুলোর জন্য বেশি বোনাস দেওয়ার দাবি কোম্পানির জন্য সমস্যা তৈরি করবে। তাদের মতে, এই দাবিগুলো মানলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মৌলিক নীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই খবর প্রকাশের পর শেয়ারবাজারেও প্রভাব পড়ে। স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে যায়।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রয়োজনে জরুরি সালিশের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর কথা বলা হলেও এখনো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার সুযোগ এখনো আছে এবং সংলাপ চালিয়ে যাওয়া উচিত।
স্যামসাং দেশটির অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রপ্তানির প্রায় এক-চতুর্থাংশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পাশাপাশি এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কারণে বিশ্বজুড়ে চিপের চাহিদা বেড়েছে। এই অবস্থায় উৎপাদন ব্যাহত হলে বৈশ্বিক সরবরাহেও ধাক্কা লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধর্মঘট দীর্ঘ হলে এর প্রভাব শুধু দক্ষিণ কোরিয়াই নয়, পুরো প্রযুক্তি বাজারেই পড়বে।

