বিশ্ব নগর ফোরামের ত্রয়োদশ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ

0
বিশ্ব নগর ফোরামের ত্রয়োদশ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ

আজারবাইজানের বাকুতে শুরু হয়েছে বিশ্ব নগর ফোরামের ত্রয়োদশ অধিবেশন। গতকাল রবিবার অ্যানাক্লডিয়া রসব্যাকের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, চলবে ২২ মে পর্যন্ত। শুরুর দিন নতুন নগর এজেন্ডাবিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোসা. ফেরদৌসী বেগমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই অধিবেশনে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুল আউয়াল, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়াসহ ৫৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের সাথে তারা এই অধিবেশনে যোগ দিয়ে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক এবং মানবকেন্দ্রিক নগর গড়ে তোলার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২০১৬ সালে বিশ্বনেতাদের গৃহীত নতুন নগর এজেন্ডা বিশ্বব্যাপী নগর রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নির্দেশিকা হিসেবে একটি বৈশ্বিক কাঠামো হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
​বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বক্তব্য রাখার সময় প্রতিনিধিদল টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পিত নগরায়ন, সাশ্রয়ী আবাসন এবং জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে দেশের চলমান প্রচেষ্টাগুলো তুলে ধরে।

মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল অগ্রাধিকারগুলো:

পরিকল্পিত নগরায়ন ও আঞ্চলিক উন্নয়ন

সারা দেশে পরিকল্পিত নগর বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের নতুন প্রণীত স্থানিক পরিকল্পনা আইনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পূর্বাচল নতুন শহর, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প এবং উত্তরা ৩য় পর্বের মতো বৃহৎ উদ্যোগগুলো ঢাকার ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করার পাশাপাশি আধুনিক ও সুপরিকল্পিত নগর এলাকা গড়ে তুলতে অবদান রাখছে।

সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন

বাংলাদেশের নগর নীতির আওতায় সবার জন্য আবাসন একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বজায় রয়েছে। সরকার টঙ্গী দত্তপাড়া ও কড়াইল প্রকল্পসহ বস্তি উন্নয়নমূলক উদ্যোগের পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে ফ্লোর এরিয়া রেশিও প্রণোদনার বিষয়টি তুলে ধরে।

জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন

সরকারি আবাসন কর্মসূচি, স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো এবং টেকসই নির্মাণে সহায়তাকারী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল নগর পরিকল্পনার প্রতি বাংলাদেশ তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এছাড়া, বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে ‌‘পুরান ঢাকা পুনরুজ্জীবন প্রকল্প’ উপস্থাপন করা হয়।

​টেকসই নগরের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব

কক্সবাজারে ভূমির অবক্ষয় (ল্যান্ড সাবসিডেন্স) রোধের প্রচেষ্টাসহ সমগ্র বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন, নগর স্থিতিস্থাপকতা এবং টেকসই উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে ইউএন-হ্যাবিট্যাট , বিশ্বব্যাংক, ইউএনওপিএস এবং ইউএনএসক্যাপ-এর ধারাবাহিক সহায়তার কথা প্রতিনিধিদল কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করে।

জাতিসংঘের হ্যাবিট্যাট এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয় মাল্টি-কান্ট্রি অফিস এবং ইউএন-হ্যাবিট্যাট বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিস এই অঞ্চলে টেকসই নগর উন্নয়নে দেশগুলোকে সহায়তা করতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here