কুমিল্লায় সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিহা (২৩) মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফারিহার বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় ফারিহার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়, শ্বশুর আবদুর রহিম, শাশুড়ি আফরোজা বেগম, ননদ রীমা আক্তার ও তার স্বামী জাকারিয়াসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফারিহা ও হৃদয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আবদুর রহিমের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফারিহার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্কুলশিক্ষক বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ফারিহার বাবার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামে।
ফারিহার বাবা মো. হানিফ বলেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে নাটক সাজানো হয়েছে। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকা হয়। থানায় নেওয়ার পর আমাদের জানানো হয়, ফারিহা আত্মহত্যা করেছে।”
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। এদিকে মেয়ে হারানোর শোকে এখনও ভেঙে পড়েছেন ফারিহার মা।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ফারিহার বাবার অভিযোগটি আপাতত আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ফারিহার স্বামীসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর মুন্সেফবাড়ি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

