ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একলাফে আট শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই নৌ অবরোধ কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তার মতে, সরাসরি সামরিক হামলার চেয়ে নৌ অবরোধ অনেক বেশি কার্যকর। ট্রাম্প দাবি করেন, এই অবরোধের ফলে ইরানের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ অবস্থা এখন ‘হাঁসফাঁস’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রয়োজন হলে এই অবরোধ আরও দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। এর ফলে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দেরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ সামরিক হামলার চেয়ে বেশি কার্যকর। তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে এই অবরোধ দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়া হতে পারে।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং মার্কিন ভোক্তাদের ওপর প্রভাব কমাতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইরান দাবি করেছে, কোনো সমঝোতার আগে তাদের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে।
তবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে না নিলে তেহরান নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল প্রেসটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অবরোধ বজায় রাখে, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সূত্র : আল-জাজিরা।

