মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকা ফুটবলাররা। বিশেষ করে দুজনেরই এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ, ফলে তাদের ঘিরে আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
তবে শুধু আক্রমণভাগের তারকারাই নন, ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে গোলরক্ষকদেরও। বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, অনেক সময় একটি দলের শিরোপা জয়ের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা খেলোয়াড়রাই। এবারও বিশ্বের সেরা কয়েকজন গোলরক্ষক নিজেদের দেশের হয়ে মাঠে নামবেন। তাদের দিকেও থাকবে সমার্থকেদের বিশেষ নজর।
ম্যানুয়েল ন্যয়ার (জার্মানি)
৪০ বছর বয়সেও বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকদের একজন ম্যানুয়েল ন্যয়ার। তাই অবসর ভেঙে তাকে আবারও বিশ্বকাপ দলে ফিরিয়েছেন জার্মানির প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান।
আধুনিক ফুটবলে ‘সুইপার-কিপার’ ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলার অন্যতম পথিকৃৎ ন্যয়ার। ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এবার হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ। ফলে বিদায়ের মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের আরেকটি স্মরণীয় প্রদর্শনী উপহার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
ক্লাব ফুটবলেও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ভালো ছন্দে ছিলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। তাই জার্মানির অন্যতম বড় ভরসা তিনিই।
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা)
আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে ফেলেছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের র্যান্ডাল কোলো মুয়ানির নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে এবং টাইব্রেকারে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
শুধু ফাইনাল নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে আলোচনায় ছিলেন মার্তিনেজ। বড় ম্যাচের চাপ সামলানো, প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে চাপে ফেলা এবং সংকটময় মুহূর্তে দলকে বাঁচানোর অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে তার। তাই এবারের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রধান ভরসা তিনি।
আলিসন বেকার (ব্রাজিল)
ব্রাজিলের তারকা গোলরক্ষক আলিসন বেকারের অর্জনের ঝুলি প্রায় পূর্ণ। তবে বিশ্বকাপ শিরোপা এখনও অধরা। তাই ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক এবার সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন।
দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের একজন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন আলিসন। দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়া, নিখুঁত অবস্থান নির্বাচন এবং একের পর এক কঠিন শট ঠেকানোর দক্ষতার পাশাপাশি বল পায়েও সমান স্বচ্ছন্দ তিনি। নিজের বক্স থেকে দীর্ঘ পাসে মুহূর্তের মধ্যে আক্রমণ গড়ে তোলার সামর্থ্য রয়েছে তার। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় তাই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছেন আলিসন।
দাভিদ রায়া (স্পেন)
বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন দাভিদ রায়া। চলতি মৌসুমে আর্সেনালের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন তিনি এবং দলের সাফল্যে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তবে বিশ্বকাপের আগে স্পেন দলে একটি বড় প্রশ্নও রয়েছে। জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক এখনও উনাই সিমন। ফলে বিশ্বকাপে রায়া কতটা সুযোগ পান, সেটি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহল রয়েছে। তবে সুযোগ পেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে প্রস্তুত এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক। আর সে কারণেই বিশ্বকাপের আলোচনায় থাকবেন তিনিও।

