বিশ্বকাপে ঝড় তুলেছে নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন, নেপথ্যে হাজার বছরের ইতিহাস

0
বিশ্বকাপে ঝড় তুলেছে নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন, নেপথ্যে হাজার বছরের ইতিহাস

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন চমক দেখাচ্ছে নরওয়ে, তেমনই মাঠের বাইরে বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছে তাদের এক অনন্য উদযাপন— ‘ভাইকিং রো’ বা ভাইকিংদের নৌকা বাওয়ার অনুকরণে তৈরি উদযাপন। সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার পর নরওয়ের খেলোয়াড়রা মাঠের মাঝেই পিচে বসে এই ‘নৌকা বাওয়ার’ ভঙ্গিটি প্রদর্শন করেন। 

১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া লাল জার্সিধারী নরওয়েজিয়ান ফুটবল ভক্তরা ইতোমধ্যে স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে শুরু করে চলন্ত সিঁড়ি, এমনকি নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও এই ভাইকিং রো করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছেন। তবে সোমবারের শেষ বাঁশি বাজার পর খেলোয়াড় ও সমর্থকদের একসঙ্গে করা এই উদযাপন ছিল সবচেয়ে আবেগঘন ও আনন্দময়।

দলের এই ঐতিহাসিক জয়ের পর অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড এবং ম্যাচে জোড়া গোল করা তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড পুরো স্কোয়াডকে গ্যালারির সামনে একত্রিত করেন। তবে উদযাপন শুরু করার আগে তারা কিছুটা অপেক্ষা করছিলেন কোচ স্টেল সোলবাকেনের জন্য, যিনি ম্যাচ শেষ হতেই গ্যালারির সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে তার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছিলেন। কোচ ফিরে এসে হালান্ডের ঠিক পেছনে জায়গা করে নিতেই খেলোয়াড়রা ভাইকিংদের ঐতিহাসিক লম্বা নৌকার (লংবোট) মতো সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েন এবং ওডেগার্ড ড্রাম বাজিয়ে পুরো উদযাপনের ছন্দ ও আবহ তৈরি করেন।

ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, এই ব্যতিক্রমী উদযাপনটি নরওয়ের প্রাচীন ভাইকিং ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত। আনুমানিক ৭০০ থেকে ১১০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ভাইকিং যুগে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার এই যোদ্ধারা বিশাল আকৃতির দীর্ঘ নৌকায় চড়ে ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাতেন। সমুদ্রে নৌকা বেয়ে তাদের এই ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর অভিযান নরওয়েজিয়ান সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান পরিচয়। ফুটবল মাঠের এই ‘রোয়িং’ বা দাঁড় টানার গতি মূলত সেই ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

এই ভাইরাল ট্রেন্ডটি নিয়ে নরওয়ের ফুটবলাররাও নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। মিডফিল্ডার প্যাট্রিক বার্গ জানান, শুরুতে অনেকেই ভেবেছিলেন এই ট্রেন্ডটি হয়তো বেশিদিন টিকবে না বা মাঝপথেই হারিয়ে যাবে। কিন্তু এটি এখন তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের একটি বিশাল অংশ হয়ে উঠেছে। অসলো থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্ক এবং এখন পুরো বিশ্ব যেভাবে এই ভাইকিং রো সম্পর্কে জেনেছে, তা সমর্থকদের সঙ্গে দলের এক দারুণ আত্মিক শক্তি তৈরি করেছে। 

অন্যদিকে ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সরলথ গর্বিত কণ্ঠে জানান, স্টেডিয়ামে যখন হাজার হাজার মানুষের এই নৌকা বাওয়ার আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হয়, তখন পরিবেশটা সত্যিই জাদুকরি মনে হয়। টুর্নামেন্টে নরওয়ে কত দূর যাবে তা নিশ্চিত না হলেও, নিজেদের সেরা ফর্মে থাকলে যেকোনো অলৌকিক কিছু ঘটানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। 

বর্তমানে গ্রুপ ‘আই’-তে গোল ব্যবধানে ফ্রান্সের পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নরওয়ে এবং আগামী শুক্রবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে এই দুই পরাশক্তি মুখোমুখি হতে চলেছে।

সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here