বিশ্বকাপের আগেই ছিটকে গেলেন একঝাঁক তারকা, জেনে নিন কারা তারা

0
বিশ্বকাপের আগেই ছিটকে গেলেন একঝাঁক তারকা, জেনে নিন কারা তারা

ফুটবল বিশ্বের অসংখ্য তরুণের স্বপ্ন পেশাদার ফুটবলার হওয়া। সেই পথ পেরিয়ে দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপে খেলা এটি একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন। বিশ্বকাপই সেই মঞ্চ, যেখানে তৈরি হয় ইতিহাস, নির্ধারিত হয় একজন ফুটবলারের পরিচিতি। 

কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে চোটে ছিটকে পড়া এটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বড় প্রতিযোগিতার আগে প্রায়ই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় অনেক খেলোয়াড়কে।

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও কিছুদিন বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে চোটের হানায় একাধিক দলের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বের নানা প্রান্তের বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার শারীরিক সমস্যার কারণে এবারের আসর থেকে ছিটকে গেছেন। ফলে তাদের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন আপাতত থেমে গেছে।

ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড হুগো একিটিকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চোটে পড়ে দল থেকে ছিটকে গেছেন। জাতীয় দলে নিজের অবস্থান শক্ত করার বড় সুযোগটি হারালেন তিনি।

ব্রাজিলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র রদ্রিগোর চোট দলটির জন্য বড় ধাক্কা। ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছিলেন এই তারকা, ঠিক তখনই এই দুর্ভাগ্য তাকে বিশ্বকাপ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

ইংল্যান্ডের উইংয়ের অন্যতম ভরসা জ্যাক গ্রিলিশও চোটের কারণে ছিটকে গেছেন। তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণে গতি ও বৈচিত্র্য কমে যাবে ইংল্যান্ডের।

মেক্সিকোর গোলরক্ষক লুইস মালাগন জাতীয় দলে জায়গা পাকাপোক্ত করার পথে ছিলেন। কিন্তু চোটে পড়ে দলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছেন।

আর্জেন্টিনার তরুণ প্রতিভা ভ্যালেন্তিন কার্বোনি বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ হারালেন। একই সঙ্গে ডিফেন্ডার হুয়ান ফয়েথের না থাকাও রক্ষণভাগে বড় শূন্যতা তৈরি করবে।

মেক্সিকোর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রক মার্সেল রুইজের অনুপস্থিতি দলের খেলার ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে।

আর্জেন্টিনার আরেক তরুণ ফরোয়ার্ড জোয়াকিন পানিচেল্লির জন্য এবারের বিশ্বকাপ হতে পারত নিজেকে তুলে ধরার বড় সুযোগ, কিন্তু চোট সেই সম্ভাবনা থামিয়ে দিয়েছে।

স্পেনের ফরোয়ার্ড স্যামু ওমোরোডিয়ন দলের আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারতেন। কিন্তু চোট তাকে এই বড় আসর থেকে দূরে রেখেছে।

ঘানার রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা মোহাম্মদ সালিসুর অনুপস্থিতি দলটির প্রতিরক্ষা দুর্বল করে দিয়েছে।

আয়োজক দেশের হয়ে খেলার সুযোগ হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার ক্যামেরন কার্টার-ভিকার্স। তার না থাকা রক্ষণভাগের গভীরতায় প্রভাব ফেলবে।

মেক্সিকোর তরুণ খেলোয়াড় হেসুস ওরোজকোর চোট নতুন প্রজন্মের একটি সম্ভাবনাকে থামিয়ে দিয়েছে।

জাপানের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার তাকুমি মিনামিনোর অনুপস্থিতি দলের আক্রমণভাগে বড় শূন্যতা তৈরি করবে। বড় ম্যাচে তার অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই একঝাঁক তারকার ছিটকে যাওয়া আবারও মনে করিয়ে দিল ফুটবল যতটা দক্ষতার খেলা, ততটাই ভাগ্যেরও। এই খেলোয়াড়দের জন্য এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরা। বিশ্বকাপ হয়তো হাতছাড়া হয়েছে, কিন্তু তাদের ক্যারিয়ার এখনও দীর্ঘ, সামনে রয়েছে নতুন সুযোগের দরজা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here