ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে গত ১৪ দিন ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অনামিকা রায় (২৮) নামের এক তরুণী। তার অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে ধর্ষণ করেছেন পার্থ রায় (৩০) নামে এক যুবক।
এ ঘটনায় অনামিকা রায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় পার্থ রায়কে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী অনামিকা রায় পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি আলিয়ার গ্রামের লীলু রাম রায়ের মেয়ে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পার্থ রায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ী গ্রামের দীনেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি একটি আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে পার্থ রায়ের সঙ্গে অনামিকার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে পার্থ রায় বিভিন্ন সময় ফোনে ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে অনামিকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মধ্যে পার্থ রায় বিভিন্ন সময়ে অনামিকার সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেন এবং তার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২৪ মার্চ তাকে পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করানোর কথা বলে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী অনামিকা রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিষয়টি পার্থ রায়ের পরিবারকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। পরে বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পার্থ রায়ের মামা যদুনাথ বর্মন তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
অভিযুক্ত পার্থ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনির হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

