বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৮৮তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৬এ এবং এসপিএসএসসি-২০২৬এ কোর্সের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ (গ্রীষ্মকালীন)-২০২৬ বৃহস্পতিবার (২১ মে) যশোরে অবস্থিত বিমানবাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। তিনি গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজ বিতরণ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অফিসার ক্যাডেট তাহসিন আহম্মেদ কোরাইশী ৮৮তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’, অফিসার ক্যাডেট আদনান হক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ এবং অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস ট্রফি’ লাভ করেন।
এছাড়াও, ৮৮তম বাফা কোর্স (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) এ সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ লাভ করেন। উল্লেখ্য, এই গ্রীষ্মকালীন টার্মে বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিমানবাহিনী প্রধান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদৎবরণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধাদের। তিনি আরও স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধে অটল মনোবল সৃষ্টিকারী অকুতোভয় ও দুঃসাহসিক আকাশ যুদ্ধ পরিচালনাকারী কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর ক্ষুদ্র পরিসরে জন্ম নেওয়া বিমানবাহিনী আজ একটি সুশৃঙ্খল ও সুসজ্জিত বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনী বহু প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজকের এই গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানে উপনীত হয়েছে। বর্তমানে বিমানবাহিনী একটি সুসংগঠিত ও আধুনিক বাহিনী, যার কর্মপরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। দেশের আকাশসীমার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, সেনা ও নৌবাহিনী এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান, দেশ গঠন ও আর্তমানবতার সেবায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিমানবাহিনীর সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বিমানবন্দরসমূহের সকল ফ্লাইট কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখাসহ সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যপট বদলে দিয়েছিল – যা পরবর্তীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। একইসাথে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কর্তৃক গঠিত টাস্কফোর্স বিমানবন্দরে পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।
এছাড়াও, বিমান বাহিনী প্রধান তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে চলমান প্রচেষ্ঠাসমূহের উপর আলোকপাত করেন।
পরিশেষে, তিনি সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাফল্য কামনা করেন এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একাডেমির সকল সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এ কুচকাওয়াজ এর মাধ্যমে পাঁচজন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৪১ জন অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। অফিসার ক্যাডেট একাডেমি সিনিয়র আন্ডার অফিসার তাহসিন আহম্মেদ কোরাইশী আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব প্রদান করেন। কুচকাওয়াজ শেষে বিমানবাহিনী একাডেমির বিভিন্ন প্রকার বিমানের মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট, আকর্ষণীয় এ্যারোবেটিক ডিসপ্লে এবং বিমানবাহিনীর চৌকষ প্যারাট্রুপারদের হেলিকপ্টার থেকে দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবর্গ, সামরিক ও অসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

