শিল্পকলা একাডেমিতে দর্শকনন্দিত নাটক ‘উত্তরণ’ মঞ্চায়ন করেছে বিবেকানন্দ থিয়েটার। আজ শনিবার সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
এটি ছিল দলের ২৩তম প্রযোজনার ৪০তম মঞ্চায়ন। অপূর্ব কুমার কুণ্ডু রচিত নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়।
নাটকের মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ‘উত্তরণ’ নামের এক চরিত্রকে ঘিরে। যে ব্যক্তি নিজের পঙ্কিল ও পথভ্রষ্ট জীবন থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চায়। অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার এই সংগ্রামে সমাজের বাধা ও মানুষের ভূমিকা নিয়েই নাটকটি এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত উত্তরণরা কি সত্যিই নতুন জীবনে পৌঁছাতে পারে, এমন কিছু প্রশ্ন সামনে রেখেই এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি।
নির্দেশক শুভাশীষ দত্ত তন্ময় বলেন, বিবেকানন্দ থিয়েটারের হয়ে নাট্যকারের কাছে চাওয়া ছিল, দলগত অভিনয় উপযোগী ও কাল্পনিক চরিত্রের সম্মিলনের নাটক। তিনি আমাদের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে তার করণীয় কাজটা করেছেন। আমি সহ এই নাটকের অভিনয়শিল্পীরা চেষ্টা করছি দর্শকের সামনে জীবন্ত অনুভূতি ফুটিয়ে তুলতে। অভিনয়, নির্দেশনা এবং দলের সামগ্রিক কর্ম-সম্পাদনায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে আমার সামগ্রিক ভাবনায় আছে ‘উত্তরণ’।
নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু বলেন, পথভ্রষ্ট মানুষ চায় মূল পথে ফিরে আসতে, যেমনিভাবে গভীর আঁধার পেরিয়ে মানুষ নব প্রভাতের আলোর অপেক্ষা করে। সূর্যোদয়ে যেমন আলোর প্রকাশ, তেমনি নাটক ‘উত্তরণ’ জ্ঞানালোকের এক প্রজ্বলিত আভা। এই উত্তরণ অনেকটা বৃক্ষের মতো, যার শিকড় মাটির তলে অন্ধকারে পঁচা মাটিতে অথচ যে ডালে ডালে ফুলে ফলে ধরিত্রীকে রঙ্গিন করে, নিজের জীবনকে সার্থক করে। পচা মাটি এখানে উত্তরণদের জীবিকা আর ফুল-ফল তাদের জীবনবোধ এবং বোধ থেকে উচ্চারিত সংলাপ।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, শান্তনু সাহা, তারক নাথ দাস, রাজীব দেব অমিত, সুধাংশু নাথ, মোস্তফা কামাল মুরাদ, আশরাফুল আরিয়ান, রিমন সাহা প্রমুখ।

