পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে এবারও মূল লড়াই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির। তবে কয়েকটি আসনে কংগ্রেস, সিপিআইএম, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালেও দলটি ক্ষমতায় থাকে। আসন্ন নির্বাচনে টানা চতুর্থবার সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে দলটি। তাই তাদের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন একাধিক মন্ত্রী ও পরিচিত নেতা।
অন্যদিকে ২০২১ সালের নির্বাচনে ৭৭টি আসনে জয় পাওয়া বিজেপি এবার সরকার গঠন করবে বলে দাবি করছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দলটির আসন সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। ফলে বিজেপির প্রার্থী তালিকাতেও বর্তমান বিধায়ক ও পরিচিত মুখদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থীদের তালিকায় সবার আগে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ভবানীপুর আসন থেকে লড়ছেন। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে ভোট হবে দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট হবে।
তৃণমূলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম কলকাতা বন্দর আসন থেকে লড়ছেন। তিনি বর্তমানে পুরসভা ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি কলকাতার মেয়র। হাবড়া আসনে দলের প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেও ঘিরে আলোচনা চলছে। রেশন দুর্নীতি মামলায় কারাভোগের কারণে তার প্রার্থী হওয়া নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
কামারহাটি আসনে তৃণমূলের প্রার্থী মদন মিত্র। নানা বিতর্ক ও কারাবাসের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও দল তাকে ফের প্রার্থী করেছে।
বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম খড়গপুর সদর আসনের দিলীপ ঘোষ। রাজ্য রাজনীতিতে সংগঠন গড়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পাল, শিলিগুড়িতে শঙ্কর ঘোষ এবং হিঙ্গলগঞ্জে রেখা পাত্রের দিকেও নজর রয়েছে।
পানিহাটি আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী রত্না দেবনাথ এবং নোয়াপাড়া আসনে অর্জুন সিংও আলোচনায়। কংগ্রেসের সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী বহরমপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বাম শিবিরে যাদবপুর থেকে সিপিআইএমের প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছেন। এছাড়া এজেইউপির হুমায়ুন কবীর ও আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকীর লড়াইও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ মে।

