তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক নাটক শুরু হয়েছে। সদ্য নির্বাচিত এআইএডিএমকের একাধিক বিধায়ককে পুদুচেরির একটি রিসোর্টে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ভাঙনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ওই রিসোর্টে থাকা বিধায়কদের ভিডিও প্রকাশের পর আলোচনা আরও তীব্র হয়। এতে দলটির কয়েকজন নেতাকেও দেখা যায়।
তবে এআইএডিএমকে ভেতরে কোনো দ্বন্দ্ব নেই বলে দাবি করেছে। দলটির ভাষ্য, অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকের পক্ষ থেকে বিধায়কদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, টিভিকেকে সমর্থন দেওয়া নিয়ে শুরুতে কিছু বিভ্রান্তি ছিল। কারণ, দলীয় প্রধান এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী এ বিষয়ে নীরব ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় কমিটি স্পষ্ট জানায়, টিভিকেকে সমর্থন দেওয়া হবে না এবং সব বিধায়কই এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।
এর আগে অভিযোগ ওঠে, রিসোর্টে থাকা কিছু বিধায়ক দলীয় প্রধানের ওপর চাপ দিচ্ছেন যাতে টিভিকেকে সমর্থন দেওয়া হয়। যদিও এআইএডিএমকের জ্যেষ্ঠ নেতা সিভি শানমুগম এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে টিভিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এআইএডিএমকের কাছে সমর্থন চায়নি। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সরকার গঠনে তারা অন্য দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি বাম দল সিপিআই, সিপিএম এবং ভিডিসিকের সমর্থনও চাওয়া হয়েছে।
প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই টিভিকে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসন পেয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য তাদের আরও আসন প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। রিসোর্ট রাজনীতি, জোটের হিসাব আর নেতৃত্বের লড়াই মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: এনডিটিভি

