ইরানের নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালীতে থাকা দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে দেশটি। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (১০ মে) গভীর রাতে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের অযাচিত ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাবে হামলা করা হয়েছে েএতে দাবি করা হয়েছে। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম হরমুজ প্রণালীর উপকূলবর্তী বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহর এবং কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কারগানেও বিস্ফোরণ ঘটেছে, এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতি ‘বারবার লঙ্ঘনের’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছে এবং বলেছে হরমুজ প্রণালী ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ’ থাকবে।
সংস্থাটি বলেছে, তেল ট্যাঙ্কার এবং বাণিজ্যিক জাহাজসহ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের সমস্ত যান চলাচল প্রভাবিত হবে এবং প্রণালীটি দিয়ে জাহাজ পার হতে সাহায্য করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী দাবিকে তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, অবৈধভাবে প্রণালীটি পার হওয়ার চেষ্টাকারী দুটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটি বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি ও আহমদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটিতেও হামলার দায় স্বীকার করেছে।
হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার একদিন পর এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেল।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘খুব কঠোর’ আঘাত হানবে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চুক্তিটির কী হয়, তা আমরা দেখব। আমরা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের ঝুলিয়ে রেখেছে। তারা আমাদের বোকা বানাচ্ছে, কারণ জানেন কী? তারা কিছু অত্যন্ত নির্বোধ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করেছে। আমাকে বলতেই হচ্ছে, এটা বলতে আমি লজ্জিত।
মার্কিন নেতা তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে আরও বলেছেন, ইরান একটি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অনেক বেশি সময় নিয়েছে এবং ‘এখন তাদের এর মূল্য দিতে হবে’।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এও হুমকি দেন, ইরান যদি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি না হয়, তবে তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালাবেন। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র নিন্দা করেছেন।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো জনগণের জীবনপ্রবাহ। পরিবহন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও পানি শিল্প পর্যন্ত এগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি কোনো শক্তি প্রদর্শন নয়। বরং একটি জাতির ইচ্ছাশক্তির সামনে হতাশার লক্ষণ।
তিনি আরও যোগ করেন, ইরান তার বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও সক্ষমতা, জাতীয় ঐক্য এবং সংহতির ওপর নির্ভর করে যেকোনো চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে।
সূত্র: আলজাজিরা।

