ইতিহাস যেন ফিরে আসছে এক অনন্য আবেগের বৃত্ত পূর্ণ করে। দীর্ঘ ৪৭ বছর আগে, ১৯৭৯ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে যে ‘ধরার খাল’ খনন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আজ সেই বাবার স্মৃতিবিজড়িত খালটির পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন তারই সুযোগ্য সন্তান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতিহাসের এই বিরল ও আবেগময় মুহূর্তটির সাক্ষী হতে এখন অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ত্রিশালের সর্বস্তরের মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা ত্রিশাল জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ইতিমধ্যেই নিটোল নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকা। সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা গড়ে তুলেছেন এক কঠোর ও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়।
উদ্বেলিত জনতা, উৎসবের আমেজ:
আজ শনিবার সকালে উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের দরিয়ারপুর গ্রামের ধরার খাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। সকাল থেকেই খালের পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো মানুষ। ঘরের কোণ ছেড়ে বের হয়ে এসেছেন নারী, পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে থরথরে বৃদ্ধও। প্রিয় নেতাকে একনজর কাছ থেকে দেখার এবং ইতিহাসের এই মাহেন্দ্রক্ষণের অংশ হওয়ার জন্য তীব্র রোদেও তাঁদের চোখে-মুখে ক্লান্তির লেশমাত্র নেই; বরং সেখানে খেলা করছে এক অনাবিল আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা।
জানা গেছে, খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সেখানে স্থাপিত একটি সুসজ্জিত মঞ্চে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৪৭ বছর আগের সেই স্মৃতি:
ইতিহাসের পাতা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৭ সালের দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী যে গণমুখী ও ব্যাপকভিত্তিক ‘খাল খনন কর্মসূচি’ চালু করেছিলেন, তারই অংশ ছিল ত্রিশালের এই খালটি। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে তিনি ব্যক্তিগত পরিদর্শনে এসে স্থানীয় এই ‘ধরার খাল’ বা বৈলর খালের পরিমাপ ও খনন কার্যক্রমের সাথে সরাসরি যুক্ত হন। আজ ৪৭ বছর পর সেই খালই আবার নতুন প্রাণ পেতে যাচ্ছে।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “বাবার খনন করা খাল ৪৭ বছর পর পুনঃখনন করবেন তিনি। শুধু তাই নয়, ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই আগমনকে ঘিরে সমগ্র ময়মনসিংহবাসী আজ আনন্দিত এবং প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে একগুচ্ছ নতুন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির অপেক্ষার প্রহর গুনছে।”
ত্রিশালবাসীর কাছে এই পুনঃখনন কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি যেন দুই প্রজন্মের এক অবিচ্ছেদ্য মেলবন্ধন এবং সমৃদ্ধ আগামীর এক নতুন সোপান।

