বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাতিল হওয়া ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই-বাছাই করছে সরকার।
এ জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিমকে প্রধান ও বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মাহাফুজার রহমানকে সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
গত ৬ মে জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়, বাতিল হওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) অনুযায়ী কার্যক্রম আইনগতভাবে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব কি না, তা পর্যালোচনা করবে কমিটি। সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ সালে ‘কুইক এনহ্যান্সমেন্ট অব ইলেকট্রিসিটি অ্যান্ড এনার্জি সাপ্লাই (স্পেশাল প্রভিশন) অ্যাক্ট- ২০১০-এর আওতায় এসব প্রকল্পকে প্রাথমিক অনুমোদন বা সম্মতিপত্র (এলওআই) দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পগুলো থেকে মোট ৩ হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল, যার সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার।
তবে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার হাইকোর্টের রায় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এসব প্রকল্পের এলওআই বাতিল করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অনিয়ম থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কিন্তু সব চুক্তি একসঙ্গে বাতিল করা যথাযথ সিদ্ধান্ত ছিল না।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের শেষাংশে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এসব চুক্তি পুনরায় আলোচনা করতে পারবে। সেই সুযোগ ব্যবহার না করে একতরফাভাবে সব প্রকল্প বাতিল করা সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত ছিল না।
বিনিয়োগকারীদের দাবি, ১৫টির বেশি প্রকল্পে শতভাগ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল এবং প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, ৩২০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ ও ২৫ মেগাওয়াট বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকার পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরে আসবে। তথ্যসূত্র: টিবিএস

