উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে চিংড়ি চাষের তীব্র লবণাক্ত জমিতেও এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়, যেখানে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪৯ লাখ মেট্রিক টন ধান। এ থেকে চাল উৎপাদন হবে প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন। ফলে জনসংখ্যার তুলনায় বাগেরহাট এখন উদ্বৃত খাদ্য উৎপাদনের জেলার তালিকায় স্থান পেয়েছে।
চিংড়ি চাষে রোগবালাই ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে লবণ সহিষ্ণু উন্নত জাতের বোরো ধান চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। ব্রি-৬৮, ব্রি-৯২, ব্রি-৯৭, ব্রি-৯৯ ও বিনা-১৯ জাতের ধানে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বর্তমানে কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন।
রামপাল ও মোংলা উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, চিংড়ি চাষে নিয়মিত ক্ষতির কারণে এবার ধান চাষে ঝুঁকি নিলেও কৃষি বিভাগের সহায়তায় তারা ভালো ফল পেয়েছেন। বীজ, সার ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ায় উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, উপকূলীয় এই এলাকায় লবণাক্ততা থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের বোরো ধানে আগ্রহ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে, যার ৯৭ শতাংশেই লবণ সহিষ্ণু ও উন্নত জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এতে বোরো উৎপাদনে বড় সাফল্য এসেছে বলে তিনি জানান।

