বাংলাদেশে হরমোনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা নীরবে মহামারির আকার ধারণ করছে। বর্তমানে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনো হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তবে রোগ জটিল পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার রাজধানীর পরিবাগে অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসেডবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্ব হরমোন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে রেনাটা পিএলসি।
কেন বাড়ছে হরমোন সমস্যা
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা জানান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই এ সংকটের মূল কারণ। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত প্লাস্টিক ব্যবহার, রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
এসেডবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, শরীরে প্রায় ৫০ ধরনের হরমোন রয়েছে। এসব হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা উচ্চ রক্তচাপের মতো গুরুতর রোগ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় অন্য রোগের পরীক্ষা করতে গিয়ে এসব সমস্যা ধরা পড়ে।
প্রতিরোধের উপায়
বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিকাংশ হরমোনজনিত রোগ প্রতিরোধযোগ্য। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। পাশাপাশি অপচিকিৎসা এড়িয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দেন তারা।
ঝুঁকিতে শিশু ও নারীরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনজনিত সমস্যা এখন শুধু বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা ও ডায়াবেটিস বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), অনিয়মিত মাসিক ও বন্ধ্যাত্বের সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। সামাজিক সংকোচ দূর করে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সচেতনতার বিকল্প নেই
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ বলেন, হরমোন নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা শুধু একটি নয়, বরং শত শত রোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই এখনই সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

