স্টাফ রিপোর্ট :- আমার নিউজের সাপ্তাহিক প্রতিবেদন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে সাধারণ জনগণের মতামত জানতে চলে এলাম ঢাকা-১৯ আসনের নির্বাচনী এলাকা শিমুলিয়া ইউনিয়নের ব্যাস্ততম এলাকা আমতলা বাজারে। এখানে এসে দেখা হয়ে গেল অত্র বাজারে অবস্থিত ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির আউটলেটের ক্যাশিয়ার জনাব আখতার হোসেনের সাথে। বরাবরের মতোই তার সাথেও এ দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলাপ কালে তিনি বলেন।
তার ভাষায় –
আমি আসলে দেশের রাজনীতি ও রাজনীতিবীদ নিয়ে কখনো কোনো চিন্তা ভাবনা করিনা।
আর কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্টও করিনা।
আমার তিনদশকের জীবনে মাত্র দুটি রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় দেখেছি।
কিন্তু আমি যতটুকু এই সংক্ষিপ্ত জীবনে উপলব্ধি করতে পেরেছি তাতে আমি নিশ্চিত এই সাবেক দুই রাজনৈতিক দলের একটাও দেশের উন্নয়নে কোনো প্রকার ভূমিকা রাখতে পারবেনা।
যে দল পালিয়েছে তাদের ১৭ বছর পর্যবেক্ষণ করা হয়েগেছে।
আর তাদের পূর্বে যারা ছিল সেই সময় তাদের কার্যক্রম কোন পর্যায়ে ছিল তা তখন হয়তো বাল্য বয়সের কারণে উপলব্ধি করতে পারি নাই।
কিন্তু এটুকু নিশ্চিত দেশের জনগণ তাদের কার্যক্রমে বিরক্ত হয়েই ফ্যাসিস্ট হাসুবু কে সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী করে ছিল।
আর এখন তো দেখতেই পাচ্ছি তাদের কর্যক্রম।
কাজেই দেশ কে জেনে শুনে কোনো করাপ্টেড দলের কাছে তুলে দিতে পারিনা।
যারা পদ-পদবীর জন্য আ/গ্নেঅ/স্ত্র ও ক/ক/টে/ল ব্যবহার করে চাঁদা তুলতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে যারা নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য উশৃংখল পোলাপান নিয়ে শোডাউন দেয়, যারা এই দেশে এতো কিছু এতো হতাহতের পরও মনে করে যে পেটুয়া বাহিনী ও অ/স্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘুরে জনগণ কে ভয় ভীতি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারলেই নেতা হওয়া যায়।
সুষ্ঠু নির্বাচনে তাদের ভোট দিয়ে পাশ করানোর মনমানুষিকতা আমার একটুও নেই।
আমরা বেশির ভাগ সাধারণ জনগণ মনে করি এই দুই দল ছাড়া তো আর ভালো প্রার্থিই নাই।
ওরাই টাকাওয়ালা নেতা, নির্বাচনে ওরা ছাড়া অন্য দলের প্রার্থীদের কি ইলেকশনে খরচ করার টাকা আছে না যে এদের বাদ দিয়ে অন্য দলের প্রার্থী কে ভোট দিবো?
কিন্তু আমারা সাধারণ জনগণ কেন শুধু টাকা খরচ করা পাবলিক কে ভোট দিয়ে পাশ করাবো এই চিন্তা কখনো করিনা।
তারা টাকা খরচ করতাছে এলাকায় এলাকায় চায়ের খরচ দিতাছে নির্বাচনী এলাকা গরম করে রাখতেছে ভোট তাদের দিবো না তো দিবো কারে।
এমন চিন্তা করে সব সময় দেশের দায়িত্ব আমরা ব্যবসায়ীদের দিয়ে আসতেছি যারা নির্বাচনে ইনভেস্ট করে আর নির্বাচিত হলে তা সুদে আসলে অসুল করে।
এটা আমরা জানি বুঝি তবুও প্রতিবারই সেই একই ভুল করি।
কিন্তু একটু ভাবেন এভাবে আর কতো?
আসেন একবার একটু অন্য ভাবে চিন্তা করি।
নির্বাচনী মৌসুম উপভোগ করতে একটু চা পান খাওয়ায় যায় তাই বলে কি আদিম কালের দাদা দের মতো চা পান খেয়ে দেশ সেই সব নির্বাচন ব্যবসায়ীদের কাছে তুলে দেওয়া যায়।
কালিয়াকৈরের গতো কালের ঘটনার কথাই ধরেন,
যারা শুধু মাত্র পদের জন্য অসৎ পথ বেছে নিতে পারে তারা কিভাবে দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যাবে ভাবেন?
এবার আসেন জামায়াত নিয়ে বলি :-
আমি জন্মের পর কখনো তাদের ক্ষমতায় দেখিনি কিন্তু যখনই দেশে সৈরাচারের দেখা মেলেছে সবার আগে তাদেরই প্রতিবাদ করতে দেখেছি।
আর আমি এই পর্যন্ত যতই জামায়াত নেতা দেখেছি তাদের মতো সৎ ও যোগ্য নেতা অন্য কোনো দলে কখনো কল্পনাও করি নাই।
এখন অনেকে বলবে আমি জামায়াত করি।
কিন্তু আমি নিজেই মনে করি জামায়াত করার মতো যোগ্যতা আমার নেই।
তাদের মতো সৎ আর আদর্শ আমার মাঝে নেই যে আমি জামায়াতের পদ পাওয়ার জন্য এসব বলতেছি।
আমি শুধু এটুকু বলতে চাই যে একটা বার অন্তত তাদের সুযোগ দিয়ে দেখা উচিৎ তারা দেশের জন্য কি করে।
দেশের আর কোথায় কি হলো তা না ভেবে অন্তত সাভার আশুলিয়ায় এই টুকু পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছি।
আখতার ভাইয়ের মতো এ অঞ্চলের আরো অনেক ভোটারদের কাছে এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে বেশিরভাগ লোকেই নতুন নেতৃত্ব চাচ্ছে বলে আমরা জানতে পারি। এবং নতুনদের মধ্যে অধীকাংশ মানুষ আখতার ভাইয়ের মতোই জামায়াত কে প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছে।
এখন সামনে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা দেশের প্রতিটি নাগরিকের। সকল নাগরিক যেন তাদের ভোটাধিকার সুষ্ঠু ভাবে পালন করতে পারে বর্তমান সরকারের কাছে এ প্রত্যাশা রেখে আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি। আগামী সাপ্তাহে আবার নতুন প্রতিবেদন নিয়ে নতুন কোনো নির্বাচনী এলাকা থেকে হাজির হবো।
সে পর্যন্ত সকলেই সুস্থ থাকুন এবং আমার নিউজের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

