দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে ভারতের একচ্ছত্র প্রাধান্য ছিল। গত দুই সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেই ধারা পরিবর্তন করে বাংলাদেশ। দুইবারই ভারতের জালে তিন বার করে বল পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। এবার ভারতের গোয়ায় চলমান নারী সাফ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। তাতেই ২০১৯ সালের পর ভারতের কাছে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা।
এই হারে ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে গেল টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। শেষ চারের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে গত দুটি ফাইনালের প্রতিপক্ষ নেপাল।
২০২২ সালের আসরের পাঁচ ম্যাচের সবগুলো জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের আসরের চার ম্যাচের তিনটি জেতা লাল-সবুজরা আরেক ম্যাচে ড্র করেছে। বাংলাদেশের সর্বশেষ হার ছিল ২০১৯ সালের ২০ মার্চ পঞ্চম সংস্করণের সেমিফাইনালে। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দুই হাজার ৬২৯ দিন না হারার দম্ভ নিয়ে চলছিল বাংলাদেশ। সেই দম্ভে ঘা হয়ে এলো ভারতের বিপক্ষে হার। বছরের হিসাবে সাত বছর দুই মাস ১১ দিন পর হারের স্বাদ নিল লাল-সবুজরা। সর্বশেষ হার ছিল এই ভারতের বিপক্ষেই।
কিক-অফের পর ৮০ সেকেন্ডে অনিকা রানিয়া সিদ্দিকী প্রতিপক্ষের শিলকি দেবীর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে গোলরক্ষক পান্থই চানুর হাতে বল তুলে দেন! খানিক বাদে ভারতের আক্রমণ রুখতে যাওয়া কোহাতি কিসকু কী মনে করে দাঁড়িয়ে গেলেন, কে জানে! বল পেলেও ভারতের পিয়ারি জাজা অবশ্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। এমন আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ দিয়ে শুরু হয়েছিল ম্যাচ।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভারতের ছোট ছোট পাসে বল নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশলের বিপরীতে বাংলাদেশ লং বলে খেলতে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিল। মাঝমাঠের কর্তৃত্ব নেওয়া ভারত আধিপত্য বিস্তার করছিল। ক্রমাগত চাপে বারবার ভুল করছিল বাংলাদেশ। সেই ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে ৩৬তম মিনিটে। শিলকি দেবীর ক্রসে কোহাতি কিসকু যে হেড নিলেন, তা গিয়ে পড়ল পিয়ারি জাজার পায়ে। বক্সের মধ্য থেকে মাপা শটে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড—গোলরক্ষক মিলি আক্তার ঝাঁপালেও বলের নাগাল পাননি (১-০)।
বিরতির পর বাংলাদেশ খেলায় উন্নতি করলেও গোলের পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। আক্রমণ রুখে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নিয়েছিল ভারত। তেমনই এক পাল্টা আক্রমণে পাওয়া পেনাল্টি থেকে ৭৮তম মিনিটে স্কোরলাইন দ্বিগুণ করেন লিন্ডা কম (২-০)। ম্যাচের যোগ করা সময়ে মালাভিকা ঠান্ডা মাথার নিচু শটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন। শেষ পর্যন্ত ওটাই ছিল ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোরলাইন।

