বলিভিয়ায় তীব্র বিক্ষোভের মুখে জরুরি অবস্থা ঘোষণা, সেনা মোতায়েন

0
বলিভিয়ায় তীব্র বিক্ষোভের মুখে জরুরি অবস্থা ঘোষণা, সেনা মোতায়েন

বলিভিয়ায় টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধের মুখে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল বিক্ষোভকারীরা।

শনিবার (২০ জুন) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি পুরো দেশে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ একটি নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হাতে নেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে গত মে মাসের শুরুতে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করে দেশটির প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ‘বলিভিয়ান ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল’ (সিওবি)।

দীর্ঘদিন অচলাবস্থার পর শুক্রবার (১৯ জুন) সরকার প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন সিওবি-র সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকার কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণ (ব্যক্তিগত মালিকানায় ছেড়ে দেওয়া) না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর সিওবি-র পক্ষ থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এই চুক্তিতে সব খাতের শ্রমিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না।

সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চাপারে অঞ্চলের শ্রমিক গোষ্ঠী ও কোকা চাষিরা এই চুক্তিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন। তারা চুক্তি অমান্য করেই রাস্তা অবরোধ ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এখনো দেশের প্রায় ৫০টি জায়গায় অবরোধ বহাল রয়েছে।

টানা দেড় মাস ধরে চলা এই আন্দোলনের কারণে বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজসহ প্রধান শহরগুলোতে জ্বালানি, খাদ্য ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ এখন পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে রাস্তায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এখনো অবরোধ ধরে রেখেছে বা সহিংসতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাত্র সাত মাস আগে মধ্য-ডানপন্থী নেতা রদ্রিগো পাজ বলিভিয়ার ক্ষমতায় বসেন। তার এই জয়ের মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ ২০ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটেছিল। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই শ্রমিক, কৃষক, খনি শ্রমিক ও শিক্ষকরা তার অর্থনৈতিক সংস্কারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন। প্রেসিডেন্টের দাবি, মাদক-সন্ত্রাসী ও আত্মগোপনে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকদের হাত রয়েছে এই বিক্ষোভের পেছনে। সূত্র: আল-আরাবিয়া, আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here