‘বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, খাতভিত্তিক ব্যয়ের মান না বাড়লে সুফল আসবে না’ বাজেট পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেছেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে নিতে হলে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, শিল্পের সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন জরুরি। বাজেটে উৎপাদনমুখী শিল্প, এসএমই, কৃষি, আইটি ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর ছাড় এবং ইভি আমদানিতে শুল্ক শিথিলতা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি সবুজ অর্থনীতির দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এই ব্যয় অপচয়ে পরিণত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ১.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১.৭৯ শতাংশ হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ বেড়েছে, এটি ভালো উদ্যোগ।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, বরাদ্দ ১.৯৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.১১ শতাংশ করা হয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যবস্থাপনা। প্রায় ৯৫টি কর্মসূচিকে কীভাবে একীভূত করা হবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানো যাবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
ডেটাবেজ ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনতে শক্তিশালী ডেটাবেজ ও ডিজিটাইজেশন প্রয়োজন।
সংস্কার প্রসঙ্গে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, কর ব্যবস্থার অটোমেশন, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো সহজীকরণের কথা বলা হয়েছে, এগুলো ইতিবাচক।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ঘোষণা দেওয়া সহজ, কিন্তু বাস্তবায়নই সবচেয়ে কঠিন। সংস্কার সাধারণত অজনপ্রিয় হয়, তাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে এটি সংস্কার শুরু করার উপযুক্ত সময়। তবে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী হেলেন মাশিয়েত প্রিয়তি প্রমুখ।

