ফুলেল শ্রদ্ধা, গার্ড অব অনার এবং তিন দফা জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী ও দেশের পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার।
মঙ্গলবার বিকেলে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে, সকাল ৮টা ৫২ মিনিটে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘর থেকে মরদেহ নেওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশনে। সেখানে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলমসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক বিশিষ্টজন।
এরপর সর্বজনের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বেলা ১১টায় মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে প্রয়াত এই গুনীর মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষরা।
শহীদ মিনারে ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নীমা রহমান, ত্রপা মজুমদার প্রমুখ।
সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট, কর্মজীবী নারী, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, প্রাচ্যনাট, বটতলা নাট্যদলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব শেষে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রদান শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। পরে মরদেহ নেওয়া হয় চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা। এরপর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে নেওয়া হয় মরদেহ। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন ও তৃতীয় জানাজা শেষে বিকেলে বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় মৃত্যুবরণ করেন দেশবরেণ্য এই শিল্পী। তিনি দীর্ঘদিন যাবত নিউমোনিয়া ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

