বগুড়ার যানজট নিরসনে বুয়েট বিশেষজ্ঞদের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন

0
বগুড়ার যানজট নিরসনে বুয়েট বিশেষজ্ঞদের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন

উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র ও ১৬ জেলার সংযোগস্থল বগুড়া শহরে যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। ক্রমবর্ধমান এই জনভোগান্তি দূর করতে এবং শহরকে আধুনিক রূপ দিতে মাঠপর্যায়ে জরিপ ও পরিদর্শন শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল।

সোমবার বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সামসুল হকের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ বনানী থেকে মাটিডালী সড়ক পরিদর্শন করেন।

বুয়েটের এই প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন: অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান, এ্যানিসা এনাম, ড. শেখ মো. মাসরুর, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আমিন আল নূর।

প্রতিনিধিদলটি শহরের প্রধান প্রবেশপথ, সড়কের প্রশস্ততা এবং যানজটের কেন্দ্রবিন্দুগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আমন্ত্রণে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই কারিগরি দলটি বগুড়ায় সমীক্ষা চালাতে এসেছেন।

সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, বগুড়া শহরকে কীভাবে যানজটমুক্ত করা যায় এবং কী ধরণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিলে শহরের গতি ফিরবে, তার প্রাথমিক কাজ হিসেবে আমরা বনানী-মাটিডালী সড়কটি ঘুরে দেখেছি।

বগুড়া শহর দিয়ে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে যাতায়াত করেন। অতিরিক্ত মানুষের চাপ এবং পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা অবৈধ যানবাহনের কারণে শহরের বনানী-মাটিডালী ও পিটিআই মোড় থেকে দত্তবাড়ি পর্যন্ত এলাকায় সারাদিন যানজট লেগে থাকে। এতে থমকে গেছে শহরের আধুনিকায়ন।

এই সংকট নিরসনে গত ২৯ মার্চ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাঠান। প্রতিমন্ত্রীর চিঠিতে বগুড়াকে যানজটমুক্ত করতে বেশ কিছু আধুনিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে:

স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট: আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন।

ল্যান্ডস্কেপিং ও সৌন্দর্যবর্ধন: প্রধান প্রবেশপথে গাছ লাগানো ও আইল্যান্ড নির্মাণ।

পার্কিং নিয়ন্ত্রণ: নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরি এবং অপ্রয়োজনীয় যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ।

শহরবাসী বলছেন, সামান্য দূরত্ব পার হতেও এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে বনানী-মাটিডালি সড়কে যানজট এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। সওজ বগুড়ার চিঠিতেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল যানজট নিরসনই নয়, বরং পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শহরের সৌন্দর্য রক্ষা করাও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিশেষজ্ঞদের এই পরিদর্শনের পর একটি সমন্বিত প্রকল্প প্রস্তাবনা (DPP) তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমেই বগুড়া শহর তার পুরনো জৌলুস ফিরে পাবে এবং উত্তরবঙ্গের ‘বাণিজ্যিক হাব’ হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here