বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করতে এবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে বগুড়ায় ৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলাকে ঘিরে বেশ জোরেশোরে চলছে প্রস্তুতি। বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরাম ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে এই উৎসবে থাকছে বৈশাখী মেলাসহ লোকজ সংস্কৃতির এক বিশাল সমাহার।
আয়োজক কমিটি জানায়, আগামী ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টায় বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তন ও পৌর পার্কে মেলার উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। মেলা চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।
জানা যায়, বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ যে নামেই ডাকা হোক না কেন এই দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালিদের আলাদা উৎসবের আয়োজন থাকে। বাঙালির এই উৎসবকে কেন্দ্র করে লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন উপকরণ হিসেবে থাকছে গ্রামীণ জীবনের অনুষঙ্গ পশুপাখি, ফুল, হাতি, ঘোড়া, মাছ, পালকি, প্যাঁচার প্রতীক। এ ছাড়া ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি, মোরগ লড়াই, সাপ খেলা, লাঠি খেলা, যাত্রাপালা, নছিমন পালাসহ থাকছে নানা আয়োজন। মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মেলার উদ্বোধন করা হবে। তবে এ বছর শোভাযাত্রায় মুখোশ পরার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় থাকবে সাজসজ্জা করা পালকি, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়িসহ আবহমান গ্রাম-বাংলার নানা ঐতিহ্যের প্রতীক। নবর্বষকে ঘিরে বগুড়া আর্ট কলেজে চলছে বিভিন্ন অনুষঙ্গ তৈরি কাজ।
৫ দিনের এই মেলায় প্রতিদিন পৌর পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ খেলা, মোরগ লড়াই, সাপ খেলাসহ যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও এই মেলায় ৬০টি স্টলে স্থানীয় কারুশিল্পীদের উৎপাদিত পণ্য, কৃষিপণ্য, বাঁশ, বেত, পাট, মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র, শোলাসহ হরেক রকমের কারুপণ্য, বাচ্চাদের খেলনা এবং ঐতিহ্যবাহী নানা খাবারের পসরা থাকবে। নাগরদোলা ও সাম্পান নৌকায় শিশুদের বিনোদনের আয়োজনও আছে। দেশের দূরদূরান্ত থেকে মৃৎ আর কারুশিল্পীরা প্রত্যেক বছর এ মেলায় অংশ নিয়ে মেলাকে জীবনীশক্তি দান করেন।
বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরামের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ খন্দকার জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন সকাল ৮টায় বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তন চত্বরে মেলার উদ্বোধন করা হবে। এরপর বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হবে। মেলার উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে মেলা সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সহযোগিতা রয়েছে। মেলা সম্পন্ন করতে বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরামের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক লালু, প্রধান সমন্বয়কারী কেএম খায়রুল বাশার, যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল হাসান রানু, কালাম আজাদ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন।
বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক সিনিয়র সাংবাদিক কালাম আজাদ জানান, এবারের মেলা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিকতর সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মেলাটি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা প্রয়োজন। আগামী ১৪ এপ্রিল (১লা বৈশাখ) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই মেলা চলবে টানা ৫ দিন। মেলার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আয়োজক কমিটি ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি বলেন, বৈশাখী মেলায় গ্রামীণ মেলার ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।

