ফ্লোরিডায় মিলল মরদেহের আরেকটি অংশ, বৃষ্টির কি না জানা যাবে পরীক্ষার পর

0
ফ্লোরিডায় মিলল মরদেহের আরেকটি অংশ, বৃষ্টির কি না জানা যাবে পরীক্ষার পর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে আরেকটি খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির কি না, তা জানতে চলছে পরীক্ষা।

রবিবার স্থানীয় সময় বিকেলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পিনেলাস কাউন্টির একটি জলাশয় থেকে এই দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। হিলসবরো ও পিনেলাস কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ইন্টারস্টেট ২৭৫ এবং ৪ নম্বর স্ট্রিট নর্থ সংলগ্ন এলাকা থেকে দেহাবশেষটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা খণ্ডিত অংশ বর্তমানে পিনেলাস কাউন্টি মেডিক্যাল এক্সামিনারের দপ্তরে রাখা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেহাবশেষের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এটি নারী নাকি পুরুষের দেহাংশ, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার সঙ্গে উদ্ধার দেহাংশের মিল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ১৬ এপ্রিল ফ্লোরিডার টাম্পায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। তাঁদের বয়স ছিল ২৭ বছর। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।

পরদিন ১৭ এপ্রিল তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এক পারিবারিক বন্ধু বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। ২১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজের তথ্য প্রকাশ করে।

নিখোঁজের এক সপ্তাহের বেশি সময় পর গত শুক্রবার লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জামিলের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এরই মধ্যে বৃষ্টির ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন, তবে এখনো তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়নি।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা মনে করছেন, লিমনের মতোই বৃষ্টির মরদেহও সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন করে উদ্ধার হওয়া দেহাংশ এই সন্দেহকে আরও জোরালো করছে।

এদিকে, লিমন-বৃষ্টি হত্যার নেপথ্যের কারণ প্রসঙ্গে সাবেক এফবিআই এজেন্ট ও ইউএসএফ সেন্টার ফর জাস্টিস রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির সহ-পরিচালক ডা. ব্রায়ানা ফক্স বলেন, ‘তদন্তে পাওয়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রমাণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা নয়; বরং তাৎক্ষণিক রাগের বিস্ফোরণ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত একই বয়সী এবং পূর্বপরিচিত হওয়ায় সাধারণত এমন ঘটনায় অর্থনৈতিক বিরোধ, ঈর্ষা বা সামান্য কোনো ঝগড়াই বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।’

লিমন ছিলেন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিভাগের ডক্টরাল শিক্ষার্থী। নাহিদা বৃষ্টি রাসায়নিক প্রকৌশলে অধ্যয়নরত ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তাদের সর্বশেষ দেখা যায়।

সব মিলিয়ে দেহাংশটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here