দুঃসময় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ইতালিয়ান ফুটবলের। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে যেতে না পারা দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে বড় ধরনের রেফারিং কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। সিরি আ ও সিরি বি’র রেফারি নিয়োগকারী দলের প্রধান জিয়ানলুকা রোচ্চির বিরুদ্ধে ওঠা ‘স্পোর্টিং ফ্রড’ বা ক্রীড়া জালিয়াতির তদন্তের প্রেক্ষিতে নিজেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এজিআই-এর তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ মৌসুমের খেলায় ‘ক্রীড়া জালিয়াতিতে সংশ্লিষ্টতার’ অভিযোগে সাবেক আন্তর্জাতিক রেফারি রোচ্চির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আগামী বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে তার একটি প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ইতালিয়ান রেফারি অ্যাসোসিয়েশন (এআইএ) একটি বিবৃতি দিয়ে রোচ্চির এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মিলান পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস এই তদন্ত শুরু করার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, ইতালির শীর্ষ দুই বিভাগের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সুপারভাইজার আন্দ্রেয়া গারভাসোনিও তদন্তের আওতায় আসায় নিজেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন।
সিরি ‘আ’ ও সিরি বি-এর রেফারি নির্বাচক রোকি এআইএ-এর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া এই বেদনাদায়ক ও কঠিন সিদ্ধান্তটির উদ্দেশ্য হলো বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করা। আমি নিশ্চিত যে, এই প্রক্রিয়া শেষে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব।’
অভিযোগ উঠেছে যে, ইন্টার মিলানের একটি ম্যাচে রোচ্চি একজন নির্দিষ্ট রেফারিকে নিয়োগ দেওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছিলেন, কারণ ওই রেফারিকে ‘ইন্টার মিলান পছন্দ করত’। এছাড়া অন্য একটি ম্যাচে ইন্টারের একজন খেলোয়াড় প্রতিপক্ষকে কনুই দিয়ে আঘাত করার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি কেন হস্তক্ষেপ করেনি, সেই বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এজিআই-এর মতে, রোচ্চির বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ হলো—গত বছরের মার্চে উদিনেসে ও পার্মার মধ্যকার ম্যাচে (যেটিতে উদিনেসে ১-০ গোলে জেতে) একটি হ্যান্ডবল অপরাধের জন্য অন-ফিল্ড মনিটর চেক করতে তিনি একজন ভিএআর কর্মকর্তাকে চাপ দিয়েছিলেন।
দাবি করা হচ্ছে যে, রেফারি এবং ভিএআর কর্মকর্তা আগেই পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। ইতালিতে ‘স্পোর্টিং ফ্রড’ বা ক্রীড়া জালিয়াতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর জন্য সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

